//
অধ্যায় ১. পানি

১. আবূ হুরইরহ (র.) [১] বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) সাগরের পানি সম্পর্কে বলেছেন, “এর পানি তাহূর (পবিত্র) এবং এর মৃত (পশু খাওয়ার জন্য) বৈধ (হালাল)। [এই হাদীছটি আবূ দাউদ, আত-তিরমিযী, আন-নাসা’ঈ ও ইবনু মাজাহ সংগ্রহ করেছেন এবং ইবনু আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন। হাদীছের শব্দগুলিও তারই উদ্ধৃত। ইবনু খুযাইমা ও আত-তিরমিযী একে সহীহ (সঠিক) বলেছেন। মালিক, আশ-শাফি’ই ও আহমাদও এটি বর্ণনা করেছেন।]

২. আবূ সা’ঈদ আল-খুদ্রি [২] (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “পানি হচ্ছে তাহূর (পবিত্র) [৩] এবং কোন কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না[বর্ণনা করেছেন আছ-ছালাতবা এবং আহমাদ একে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]

৩. আবূ উমামা আল-বাহিলি [৪] (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “পানিকে কোনকিছু অপবিত্র করতে পারে না, যদি না অন্য কিছু এর গন্ধ, স্বাদ ও রঙ পরিবর্তন করে ফেলে। [৫]” [হাদীছটি ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং আবূ হাতিম একে দ’ইফ (দুর্বল) বলেছেন।] আল-বাইহাক্বি বর্ণনা করেছেনঃ “পানি হচ্ছে পরিশোধনকারী যদি না এর সাথে কোন অপবিত্র জিনিস যোগ করা হয় এবং তা এর গন্ধ, স্বাদ কিংবা রঙকে বদলে দেয়।”

৪. আব্দুল্লাহ বিন ‘উমার [৬] (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “যদি দুটি পানির পাত্র [৭] ভরার মত যথেষ্ট পানি থাকে, তাহলে সেই পানি কোন অপবিত্রতা বহন করে না।” অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছেঃ “সেই পানি অপবিত্র হয় না।” [হাদীছটি আবু দাঊদ, আত-তিরমিযী, নাসা’ঈ ও ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইবনু খুজাইমা, ইবনু হিব্বান ও আল-হাকিম একে সহীহ (সঠিক) বলেছেন।]

৫. আবু হুরইরহ (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “যখন কেউ যৌনক্রিয়ার ফলে অপবিত্র থাকে, তখন সে যেন বদ্ধ পানিতে স্নান না করে।” [মুসলিমের বর্ণনা] আল-বুখারীর বর্ণনায়ঃ “বদ্ধ পানিতে কেউ যেন মূত্রত্যাগ না করে, এবং পরে এতে স্নান করে [৮]” মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছেঃ “এর থেকে (অর্থাৎ পানি থেকে)” আবু দাঊদের বর্ণনায় রয়েছেঃ “যৌনক্রিয়ার ফলে অপবিত্রতার কারণে কেউ যেন এতে স্নান না করে

৬. নাবী (স) কে সাহচার্য প্রদানকারী এক ব্যক্তি [৯] বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) পুরুষের বেঁচে যাওয়া পানি থেকে নারীকে স্নান করতে নিষেধ করেছেন, এবং নারীর বেঁচে যাওয়া পানি থেকে পুরুষকে স্নান করতে (নিষেধ করেছেন)। (এর পরিবর্তে) তাদের উচিৎ একসাথে হাতভর্তি করে পানি নেয়া। [আবু দাঊদ ও আন নাসা’ঈ কর্তৃক বর্ণিত এবং এর ধারাবাহিক বর্ণনাকারীগণ সহীহ (নির্ভরযোগ্য)]

৭. ইবনু ‘আব্বাস (র.) [১০] বর্ণনা করেছেনঃ নাবী (স) মাইমুনার (র.) বেঁচে যাওয়া পানি দিয়ে স্নান করতেন। [এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।] আসহাব আস-সুনান [আবু দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ] বর্ণনা করেছেন যে নাবীর (স) স্ত্রীদের একজন একটি বড় পাত্র থেকে স্নান করেন। এরপর নাবী (স) এসে যখন সে (পাত্র) থেকে স্নান করতে গেলেন, তখন তিনি বললেন, “আমি যৌনক্রিয়ার কারণে অপবিত্র ছিলাম।” নাবী (স) বললেন, “পানি যৌনক্রিয়ার কারণে অপবিত্র হয় না। [১১]” [আত-তিরমিযী ও ইবনু খুজাইমা একে সহীহ (সঠিক) বলেছেন।]

৮. আবূ হুরইরহ (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “তোমাদের কারও পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তাহলে এর পরিশোধনের নিয়ম হচ্ছে, একে সাতবার [১২]ধুয়ে নিবে। প্রথমবার মাটি দিয়ে।” [এটি মুসলিমের বর্ণনা। মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছেঃ “এর ভেতরের সবজিনিস বাইরে ফেলে দেবে।”] আত-তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছেঃ “… প্রথমবার কিংবা শেষবার (পরিস্কার করার সময়) মাটি দিয়ে।”

৯. আবূ ক্বতাদাহ (র.) [১৩] বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বিড়াল সম্পর্কে বলেছেন, “এটা অপরিস্কার নয়। বরং ওটা তোমাদের কাছে সবসময় আসা-যাওয়াকারী গৃহপালিত জন্তু।” [আবু দাঊদ, আত-তিরমিযী, নাসা’ঈ ও ইবনু মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত। আত-তিরমিযী ও ইবনু খুজাইমা একে সহীহ (সঠিক) বলেছেন।]

১০. আনাস বিন মালিক(র.) [১৪] বর্ণনা করেছেনঃ এক বেদুইন এসে মাসজিদের এক কোণায় মূত্রত্যাগ করতে শুরু করলো। লোকজন তা দেখে চেচিয়ে উঠল, কিন্তু আল্লাহর বার্তাবাহক (স) তাদের থামিয়ে দিলেন। যখন সে প্রসাব করা শেষ করলো, তখন নাবী (স) এক বালতি পানি আনার নির্দেশ দিলেন এবং এর ওপর ঢেলে দিলেন। [১৫] [আল বুখারী ও মুসলিম]

১১. ইবনু ‘উমার (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “আমাদের জন্য দুই ধরণের মৃত প্রাণী ও দুই ধরণের রক্ত বৈধ করা হয়েছে। দুই ধরণের মৃত প্রাণী হচ্ছে পঙ্গপাল ও মাছ, আর দুই ধরণের রক্ত হচ্ছে কলিজা ও প্লীহা (spleen)। [বর্ণনা করেছেন আহমাদ ও ইবনু মাজাহ। হাদীছটিতে কিছু দ’ঈফ (দুর্বলতা) আছে।]

১২. আবূ হুরইরহ (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “যদি তোমাদের কারো পানীয়র মদ্ধ্যে কোন মাছি পড়ে যায়, সে যেন তখন পুরোটাই ডুবিয়ে দেয় এবং এরপর বাইরে ফেলে দেয়। কারণ এর একদিকের পালকে রোগজীবাণু (বিষ) থাকে আর অন্যপাশেই এর প্রতিষেধক থাকে। [১৬]” [আল-বুখারী এভাবে বর্ণনা করেছেন। আবু দাঊদ এর সাথে যোগ করেছেনঃ “রোগজীবাণু আক্রান্ত পালক দিয়েই এটা নিজেকে রক্ষা করে। (পানীয়র মধ্যে রোগজীবাণু আক্রান্ত পালকটি প্রথমে ডুবিয়ে দিয়ে)।]

১৩. আবূ ওয়াক্বিদ আল-লাইছি (র.) বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক (স) বলেছেন, “জীবিত পশু থেকে যে (পরিমাণ অংশই) কাটা হোক না কেন তা মৃত (মাংস)।” [আবূ দাঊদ কর্তৃক বর্ণিত, আত-তিরমিযী হাদীছটিকে হাসান (ভালো) বলেছেন আর এর শব্দগুলো আত-তিরমিযীর।]


তার প্রকৃত নাম হচ্ছে ‘আব্দুল্লাহ অথবা ‘আব্দুর-রহমান বিন সাখ্‌র আদ-দাউসি। তিনি সহাবাদের (নাবী (স) এর সহচরবৃন্দ) মধ্যে অন্যতম একজন সহাবা ছিলেন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক আহাদীছ বর্ণনা করে গেছেন। ৮০০র-ও অধিকসংখ্যক লোক তার কাছ থেকে হাদীছ বর্ণনা করেছেন। খইবার যুদ্ধের সময় ৭ম হিজ্রীতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাবী (স) এর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তার সাথেই ছিলেন। ‘উমার (র) এর খিলাফাতের সময়ে তাকে মুফতি (ইসলামিক আইন ব্যাখাকারী) হিসেবে দায়িত্ব দেয় হয়। পরবর্তীতে মারওয়ান আল-হাকামের শাসনামলে আল-মাদীনাহর গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৫৯ হিজ্রীতে তিনি মৃত্যু বরণ করেন এবং আল-বাক্বী’ সমাধিস্থলে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।


তার পুরো নাম সা’দ বিন মালিক বিন সিনান আল-খরাজি আল-আন্সারি। তিনি ছিলেন অভীজ্ঞ সহাবীদের মধ্যে একজন। তিনিও বহুসংখ্যক আহাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং কিছু সময় ধর্মীয় মতামত দিয়েছেন। তিনি ৮৬ বছর বয়সে ৭৪ হিজ্রীতে মৃত্যু বরণ করেন।


আহমাদ, আত-তিরমিযী ও আবু দা’উদ বর্ণনা করেছেন যে, নাবী (স) বুদা’আ কুয়ার পানি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে এই কথাগুলো বলেছিলেন। এই কুয়াটি মাদীনাহর আশেপাশেই ছিল। কুয়াটি সবসময় ময়লা আবর্জনা দ্বারা পূর্ণ থাকত। এর অবস্থান ছিল এক নিচু জায়গায়, যার ফলে বৃষ্টির পানির সাথে সব ময়লা আবর্জনা যেয়ে এখানে জড়ো হত। এই কথাগুলো নিঃসন্দেহে এই কুয়া সম্পর্কেই বলা হয়েছে।

তার পুরো নাম সুদাই বিন ‘আজলান। তিনিও অনেক আহাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি মিশরে বসবাস করতেন। পরবর্তীতের হিম্‌স শহরে (বর্তমানে সিরিয়া) স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই ৮১ কিংবা ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

পানির সাথে কোন অপরিস্কার বা অপবিত্র জিনিষের মিশ্রণের ফলে পানি অপবিত্র হয়ে যাবে কিনা এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দুটি মত প্রচলিত আছে। (ক) পানির রঙ, স্বাদ ও গন্ধের যদি কোন পরিবর্তন না হয়, সেক্ষেত্রে পানির পরিমাণ অল্প কিংবা বেশি যাই হোক না কেন, তা পবিত্র। (খ) যদি অল্প পরিমাণ পানির সাথে কোন অপবিত্র কিছুর সংমিশ্রণ হয়ে, সেক্ষেত্রে পানির এই গুণাবলীগুলোর পরিবর্তন হোক কি না হোক, সেই পানি অপবিত্র। তবে পানির পরিমাণ যদি অধিক হয়, তাহলে এর সাথে অপবিত্র কিছুর সংমিশ্রণ ঘটলেও, উপরোক্ত তিনটি গুণাবলীর পরিবর্তন না হলে সেই পানি পবিত্র। দ্বিতীয় মতটি হানাফী শাফি’ঈদের। অন্যদিকেমালিক, আহমাদ, আয-যাহিরিয়্যাহ, সহাবা [এদের মধ্যে রয়েছেনঃ ‘উমার, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাস’উদ, আ’ইশা, আবু হুরইরহ ও হুযাইফাহ] এবং তাবি’ঈনদের [এদের মধ্যে রয়েছেনঃ ইবনু আল-মুসাইইব, সা’ইদ বিন জুবাইর, মুজাহিদ, ‘ইক্রিমাহ ও আল-হাসান আল-বাস্রি] একটি দল প্রথম মতটি সমর্থন করেন।

তিনি নিবেদিত প্রাণ ও জ্ঞানবান সহাবাদের মধ্য অন্যতম ছিলেন। বালক বয়সেই মাক্কায় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মাদীনায় হিজ্রত করেন। আল-খন্দক্বের যুদ্ধে তিনি সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করেন। ৭৩ হিজ্রী সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং যি তুয়াতে সমাধিস্থ হন।


ক্বুল্লা (قلة) হচ্চে বড় মাটির পাত্র যা প্রায় ১১৩কেজি পানি ধারণ করতে সক্ষম। ইবনু আত-তুর্কুমানি তার আল-জাওহার আন-নাক্বী গ্রন্থে বলেছেনঃ এক ক্বুল্লা সমপরিমাণ কত এ ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে, যতক্ষণ না এর ওপর কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।


এটি অল্প পরিমাণ পানির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যদি প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, তখন একে প্রবাহমান পানি হিসেবে ধরা হবে, সেক্ষেত্রে এই পানি অপবিত্র নয় এবং স্নানের জন্য ভাল বদ্ধ পানিতে মূত্রত্যাগ করা নিষিদ্ধ কারণ কেউ যদি অভ্যাসবশত এই কাজ করে সেক্ষেত্রে সেই পানি দূষিত হয়ে যাবে। এই শর্ত কেবলমাত্র বদ্ধ পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রবাহমান পানি সর্বদাই পরিস্কার, আর তা কখনই অপবিত্র হয় না, এমনকি ময়লা আবর্জনা থেকেও। বদ্ধ পানিতে স্নান ও মূত্রত্যাগের এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, অল্প পরিমাণ পানির ক্ষেত্রে এরূপ কাজ করা হারাম (নিষিদ্ধ) এবং অধিক পরিমাণ পানির ক্ষেত্রে মাক্রূহ (ঘৃণিত)

এই ব্যক্তি সহাবীদের মধ্যে একজন ছিলেন। সহাবীর নাম প্রকাশিত না হওয়া ক্ষতি বহনকারী নয়। কেননা সব সহাবীই বিশ্বাসযোগ্য (গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী)।


১০ ইনিই হচ্ছেন ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আব্বাস বিন ‘আব্দুল মুত্তালিব, নাবীর চাচাতো ভাই এবং মুসলিম উম্মাহর বিশিষ্ট বিদ্বান ব্যক্তি হিজ্রতের তিন বছর পূর্বে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৭ হিজ্রী সনে তা’ইফে মৃত্যুবরণ করেন

১১ এর আগের হাদীছটির সাথে এই হাদীছটি অসংগতিপূর্ণ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটি এমন নয়। কেননা এখানে পরিপূর্ণ নিষেধাজ্ঞার [absolute prohibition] অর্থে এই আদেশ দেয়া হয় নি, বরং এক্ষেত্রে এই আদেশটি অপবিত্রতার লেশ যাতে না পাওয়া যায় সে জন্য ইঙ্গিতমূলক নিষেধাজ্ঞা [suggestive prohibition (অর্থাৎ অপছন্দনীয়)]।

১২ এখানে উল্লেখ্য যে, অপবিত্রতা থেকে কোন জিনিসকে পরিস্কার করার জন্য সাতবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সাতবার ধোয়ার পেছনে তাৎপর্য অন্য জায়গায়। আধুনিক যুগের ডাক্তাররা বলেন যে, প্রায়ই কুকুরের নাড়ীতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণু পাওয়া যায়। এগুলো ৪মিমি লম্বা হয়। কুকুর যখন তার উচ্ছিষ্ট বের করে তখন ঐ উচ্ছিষ্ট হতে অসংখ্য জীবাণু বের হয়ে থাকে এবং উচ্ছিষ্ট বের হওয়ার জায়গার (মলদ্বারের) চারপাশে লোমের সাথে লেগে থাকে। তারপর কুকুর যখন নিজের জিহ্বা দিয়ে নিজের দেহ পরিস্কার করে তখন ঐ জীবাণুগুলো তার জিহ্বা ও মুখের সাথে লেগে যায়। এরপর কুকুর যখন কোন পাত্রে মুখ দেয় অথবা কেউ যখন কুকুরকে চুমু দেয় বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান মহিলারা তখন ঐ জীবাণুগুলো ঐ পাত্রে বা নারীদের মুখের সাথে তাদের পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। এরপর এগুলো হতে জীবাণু বের হয়ে পাকস্থলীর প্রাচীরগুলোর মধ্যে ছিদ্র করে রক্তের নালাগুলোর মধ্যে প্রবেশ করে এবং এভাবে হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসের অসংখ্য রোগ সৃষ্টি করে। যেহেতু মাইক্রোস্কপিক পরীক্ষা ছাড়া এই জীবাণুগুলো সনাক্ত কর সম্ভব নয়, সে জন্য শারী’আহ (ইসলামিক আইনকানুন) সাধারণভাবে কুকুরের লালাকে অপবিত্র ঘোষণা করেছে। আর কুকুরের লালা দ্বারা যে বস্তুই অপবিত্র হবে, পবিত্রতা নিশ্চিত করার জন্য তাকে সাতবার করে ধুতে হবে (যার মধ্যে একবার মাটি দ্বারা, বিশেষ করে প্রথমবার।) [বিস্তারিত জানার জন্য আহকাম-উল-আহসান, শার্‌হ উমদাত-উল-আহকাম গ্রন্থের পাদটীকা দেখুন]

১৩ তিনি হচ্ছেন আল-হারিছ বিন রিব’ই আল-আন্সারী, নাবীর ঘোড়সওয়ার। উহুদ এবং এর পরবর্তী সব যুদ্ধগুলোতে তিনি অংশগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে তিনি ৫৪ হিজ্রীতে আল-মাদীনাহ অথবা কূফায় মৃত্যুবরণ করেন।

১৪ নাবী যখন মাদীনায় আসেন তখন থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তাঁর চাকর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আবূ হামযা নামে পরিচিত এবং তিনি ছিলেন খায্রাজি। ‘উমারের খিলাফাতকালে তিনি বস্রায় জীবনযাপন করতেন এবং সেখানেই হিজ্রী ৯১ বা ৯২ বা ৯৩ সনে ৯৯ কিংবা ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

১৫ এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, মাটির ওপর যে কোন অপবিত্রতাকে পানি ঢেলে পবিত্র করা যায়। ইবনু আবি শাইবা – মাওফাক্ব (একজন সহাবীর কথা) অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন যে, যখন মাটি শুকিয়ে যায় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।

১৬ এই হাদীছ থেকে এটা স্পষ্ট যে পানীয়তে মাছি পড়লেই তা অপবিত্র হয়ে যায় না। অনুরূপভাবে সমগোত্রীয় অন্যান্য প্রাণী যেমন মশা, বোলতা, মাকড়সা পানীয়র মধ্যে পড়লেও কিংবা পড়ে মারা গেলেও সেই পানীয় অপবিত্র হয় না।


আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: