//
ভূমিকা

মূল বিষয়বস্তু, ঐশী বিধান ও পথনির্দেশ

  • আল্লাহর স্বতন্ত্র গুণাবলি

সূরাটির অর্থের ব্যাখ্যা জানার আগে আমাদের জানা জরুরি যে, নাবি সা. যখন তাওহ়ীদের বার্তা প্রচার শুরু করেছিলেন তখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মীয় বিশ্বাসের রকমফের কীরূপ ছিল।

মূর্তিপূজারী বহুঈশ্বরবাদীরা পূজা করতেন কাঠ, পাথর, সোনা, রূপা কিংবা অন্য যেকোনো উপাদান দিয়ে তৈরি বিভিন্ন দেব-দেবীদের। এসব উপাস্যদের আকার-আকৃতি ও অবয়ব ছিল। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী দেব-দেবীরা একে অপরের থেকে জন্ম নিত। স্বামী ছাড়া কোনো দেবী ছিল না; স্ত্রী ছাড়া কোনো দেব ছিল না। তাদের খাবার কিংবা পানীয়ের প্রয়োজন হলে তাদের উপাসনাকারী ভক্তরা সেগুলোর ব্যবস্থা করে দিতেন। বহুঈশ্বরবাদীদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে, ঈশ্বর মানুষের রূপ গ্রহণ করতেন এবং কখনো কখনো মানুষরূপে পৃথিবীতে এসেছিলেনও।

খ্রিষ্টানরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন বলে দাবি করলেও সাথে সাথে তারা এটাও বিশ্বাস করেন যে, ঈশ্বরের অন্তত একজন ছেলে আছেন। বাবা, ছেলে ও পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের সমান মর্যাদা লাভের অধিকারী।

ইহুদিরাও এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু তাদের ঈশ্বরও শারীরিক, পার্থিব এবং অন্যান্য মানবীয় গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যমুক্ত নয়। যেমন তাদের মতে: তিনি পায়চারি করেছেন, মানুষের রূপ গ্রহণ করেছেন, তিনি তাঁর এক দাসের সাথে কুস্তি লড়েছেন এবং তিনি এজরার বাবা।

এসব ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে আরও ছিল জরাথ্রুস্ট বা আগুনপূজারী এবং সাবিয়ান বা তারকাপূজারী।

এ ধরনের সামাজিক পরিস্থিতিতে যখন একমাত্র আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে এই প্রশ্ন জেগে ওঠে যে, তিনি কী ধরনের ঈশ্বর; যিনি কিনা স্বতন্ত্র এক সত্ত্বা এবং যাঁকে বিশ্বাস করলে অন্য আর সব উপাস্যের উপাসনা ত্যাগ করতে হবে। কোনো কিছু যখন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন সেটা খারাপ হলেও, কেউ যদি তার বিরুদ্ধে কিছু বলে, মানুষ তখন সেই ব্যক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করে।

লিখতে বাধা নেই যে, এটা আল-কুর’আনের এক অলৌকিকতা যে, সূরাহ আল-ইখলাস়ে অল্প কিছু শব্দের মধ্যেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেওয়া হয়েছে: আল্লাহর সত্ত্বার ব্যাপারে এমন পরিষ্কার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে যেটা সব ধরনের বহুঈশ্বরবাদী ধ্যানধারণাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর সত্ত্বার সাথে মানবীয় গুণাবলি জুড়ে দেওয়ার কোনো ফাঁকফোকরই খোলা রাখা হয়নি।

আর একারণেই নাবি সা. বলেছেন যে, এই সূরাটি বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন। এই সূরায় চারটি আয়াতের মধ্যে ইসলামের প্রধান ও মৌলিক ধর্মবিশ্বাস তথা তাওহ়ীদের কথা এসেছে। সূরাটি ছোট হওয়ার এটি মুখস্থ ও পাঠ করাও সহজ, একই সাথে এর অর্থ মানুষের মনে ছাপ ফেলেও সহজে।

বুখারি, মুসলিম, আবু দাঊদ, নাসা’ই, তিরমিযি, ইব্ন মাজাহ, মুসনাদ আহ়মাদ, ত়াবারানি ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে উল্লেখিত বিভিন্ন হাদীসে বিভিন্ন বর্ণনাসূত্রে নাবি সা. বলেছেন যে, এই সূরাটি আল-কুর’আনের তিন ভাগের এক ভাগের সমান। ব্যাখ্যাকারগণ এসব হাদীসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আবুল-আ’লা মাউদূদির মতে, আল-কুর’আনে ইসলামকে তিনটি ধর্মীয়নীতির উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়েছে: তাওহ়ীদ (আল্লাহর একত্ব), রিসালাত (আল্লাহর বার্তা) ও পরকাল। এই সূরায় বিশুদ্ধ ও কলুষমুক্ত তাওহ়ীদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আর সেকারণেই নাবি সা. একে আল-কুর’আনের এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: