//
১৮. সূরাত আল-কাহ্‌ফ (গুহা)

সবচেয়ে করুণাময়, সবচেয়ে দয়াময় আল্লাহর নামে

১. সকল প্রশংসা ও ধন্যবাদ আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর দাস (মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি এই গ্রন্থ (আল-ক্বুর’আন) অবতরণ করেছেন, এবং এতে কোন অসংগতি রাখেন নি।

২. (তিনি একে) সরল (করেছেন), তাঁর কঠিন শাস্তির ব্যাপারে (অবিশ্বাসীদেরকে) সতর্ক করার জন্য, এবং (আল্লাহর একত্বে — ইসলামিক একত্ববাদে) বিশ্বাসীদেরকে এই সুসংবাদ দেয়ার জন্য যে, যারা সৎকাজ করে তাদের জন্য থাকবে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার (অর্থাৎ স্বর্গ)।

৩. তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

৪. এবং তাদের সতর্ক করার জন্য যারা (ইহুদি, খৃষ্টান, প্যাগান ধর্মাবলম্বীরা) বলে, “আল্লাহ ছেলে সন্তান (বা সন্তান-সন্ততি, বংশধর) গ্রহণ করেছেন।”

৫. এ ব্যাপারে না তাদের কোন জ্ঞান আছে, আর না ছিল তাদের পূর্বপুরুষদের। তাদের মুখনিঃসৃত বাক্য কি সাংঘাতিক (যে আল্লাহ পুত্র ও কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন)। মিথ্যা ছাড়া তারা আর কিছুই বলে না। [১]

৬. (তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায়) তুমি হয়তো তাদের পিছে পিছে ঘুরে দুঃখে নিজেকে শেষ করে দেবে, কারণ তারা এই বর্ণনার (আল-ক্বুর’আন) প্রতি বিশ্বাস করে না ।

৭. নিঃসন্দেহে! পৃথিবীতে যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে এর অলংকাররূপে স্থাপন করেছি যেন আমি তাদের (মানবজাতি) যাচাই করতে পারি যে তাদের মধ্যে কারা কাজেকর্মে সর্বোত্তম। [অর্থাৎ যারা সবচেয়ে যথাযথভাবে ভাল কাজ করে, শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে এবং নাবী صلى الله عليه وسلم -এর সঠিক পন্থা অনুসারে]

৮. আর নিশ্চয় তার (পৃথিবীর) ওপরে যা—কিছু আছে আমি তাকে (উদ্ভিদশূণ্য) বিরানভূমিতে পরিণত করব।

৯. তুমি কি মনে কর আমার নিদর্শনগুলোর মধ্যে গুহাবাসীরা ও লিখিত-ফলক (সংবাদ বা গুহাবাসীদের নামফলক) বিস্ময়কর?

১০. (স্মরণ করো) যখন কিছু যুবক (তাদের মধ্যেকার অবিশ্বাসী জ্ঞাতিগোষ্ঠীর নিকট থেকে) গুহায় আশ্রয় নিল। তারা বলল, “আমাদের প্রভু! আমাদের ওপর আপনার অনুগ্রহ প্রদান করুন, এবং আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিন!”

১১. ফলে আমি অনেকগুলো বছরের জন্য গুহায় তাদের কান (শ্রবণক্ষমতা) বন্ধ করে (গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে) দিলাম।

১২. তারপর আমি তাদেরকে (ঘুম থেকে) জাগালাম, যাতে আমি পরীক্ষা করতে পারি যতটুকু সময় তারা অবস্থান করেছিল, দুদলের মধ্যে কে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে।

১৩. (হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ) আমি তোমার কাছে সঠিকভাবে তাদের কাহিনী বর্ণনা করছি: নিঃসন্দেহে তারা ছিল কয়েকজন যুবক যারা তাদের প্রভু (আল্লাহ)-কে বিশ্বাস করেছিল, এবং আমি তাদের সঠিক পথে চলার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।


[১৮:৫] ইবনু আব্বাস (রদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ বলেছেন, ‘আদাম সন্তান আমার ব্যাপারে মিথ্যা বলে অথচ তার এটা বলার কোন অধিকার নেই। আমাকে গালি দেয়, অথচ তার এটা বলার কোন অধিকার নেই। আমার প্রতি তার মিথ্যারোপ করার অর্থ হল, সে বলে যে, আমি তাকে (মৃত্যুর) পূর্বের মত পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম নই। আর আমাকে তার গালি দেয়ার অর্থ হল- তার একথা যে, আমার সন্তান আছে। না! আমি মহিমান্বিত। আল্লাহ আদৌ স্ত্রী-সন্তান গ্রহণ করেন না। ” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৪৮২]

পৃষ্ঠা ১/১২ ——— পরবর্তী পৃষ্ঠা >>

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: