//
আইয়াত ১০২-১০৬

১০২. যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা কি মনে তারা আমাকে ছেড়ে আমার দাসদের [অর্থাৎ ঐশ্বরিক দূত (মালাক- ফেরেশ্তা), আল্লাহর বার্তাবাহকগণ- নবি রাসুল, ‘মারইয়াম (ম্যারি) পুত্র ‘ঈসা (জিসাস)] আউলিয়া (প্রভু, ঈশ্বর, রক্ষাকর্তা) হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে? নিশ্চয় আমি নরককে (আল্লাহর একত্বে তথা ইসলামিক একত্ববাদে) অবিশ্বাসীদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি।[১]

১০৩. (মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم) বলোঃ “আমি কি তোমাদের এমন লোকদের কথা বলব, যারা কাজেকর্মে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত?

১০৪. “পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, যদিও তারা মনে করত যে তারা তাদের কাজকর্ম দ্বারা ভাল কিছু অর্জন করছে। [২]

১০৫. “তারাই সেসব লোক যারা তাদের প্রভুর আইয়াতসমূহকে (অর্থাৎ প্রমাণাদি, লক্ষণ ও নিদর্শনসমূহ, প্রত্যাদেশ, উপদেশমূলক উদাহরণসমূহ, পঙক্তি ইত্যাদি) এবং (পরকালে) তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের সকল কার্যকলাপ নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং পুনরুত্থানের দিনে তাদেরকে কোন গুরুত্বই দেয়া হবে না।

১০৬. “এটাই হবে তাদের প্রতিফল, নরক; কারণ তারা অবিশ্বাস করেছে এবং আমার আইয়াতসমূহ (অর্থাৎ প্রমাণাদি, লক্ষণ ও নিদর্শনসমূহ, প্রত্যাদেশ, শিক্ষামূলক উদাহরণসমূহ, পঙক্তি ইত্যাদি) ও আমার বার্তাবাহকদের ঠাট্টা বিদ্রুপের বিষয় বানিয়েছে।


[১৮:১০২] মহান আল্লাহ বলেছেনঃ তারা (ইহুদি ও খ্রিস্টানরা) আল্লাহকে ছেড়ে তাদের ইহুদী পণ্ডিত (Rabbi) ও খ্রিস্টান পাদ্রীদের (Monk) তাদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে (আল্লাহর আদেশ ছাড়া তারা নিজেদের খেয়াল খুশিমত যেসব জিনিস বৈধ ও অবৈধ হিসেবে রায় দিয়েছে, সেগুলো মান্য করার মাধ্যমে) এবং (প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে) মারইয়াম (Marry— ম্যারী) পুত্র মাসীহকেও (Messiah), অথচ [তাউরাত (Torah) ও ইঞ্জীল (Gospel) -এ] তাদেরকে আদেশ দেয়া হয়েছিল এক ইলাহ (ঈশ্বর – আল্লাহ) ছাড়া অন্য কারো উপাসনা না করতে, লা- ইলা-হা ইল্লা হুয়া (তিনি ছাড়া আর কেউ উপাসনার যোগ্য নয়) প্রশংসা এবং মহিমা তাঁর জন্যই, তারা (তাঁর সাথে) যে অংশীদার শরীক করে (তিনি তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে) [আল-ক্বুর’আন ৯:৩১]

একবার আল্লাহর বার্তাবাহক صلى الله عليه وسلم যখন এই পংক্তিটি আবৃত্তি করছিলেন, ‘আদি বিন হাতিম বলে ওঠলেন, “আল্লাহর নাবী! তারা তাদের (ইহুদি পণ্ডিত ও খ্রিস্টান পাদ্রী) উপাসনা করে না।” আল্লাহর বার্তাবাহক صلى الله عليه وسلم বললেন, “অবশ্যই করে। তারা (অর্থাৎ ইহুদি পণ্ডিত ও খ্রিস্টান পাদ্রীরা) বৈধ জিনিসকে অবৈধ এবং অবৈধ জিনিসকে বৈধ বানিয়েছে, আর তারা (ইহুদি ও খ্রিস্টানরা) সেগুলো অনুসরণ করেছে। আর এর মাধ্যমেই তারা তাদেরকে উপাসনা করেছে।” [বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আত-তিরমিযী ও ইবনু জারির। (তাফসীর আত-তাবারী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা নং ১১৪)]

[১৮:১০৪] ন্যায়নিষ্ঠ কাজকর্ম আল্লাহ কর্তৃক তখনই গৃহীত হবে যখন নিম্নোল্লেখিত দুটি মূল শর্ত পূরণ করা হবেঃ

ক) কোন ধরণের লোক দেখানো, কিংবা প্রশংসা ও খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, কাজের উদ্দেশ্য (নিয়্যাহ) হতে হবে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য এবং পুরোপুরি আল্লাহর জন্যই হতে হবে।

খ) এবং সেই কাজ হতে হবে সর্বশেষ নাবী ও বার্তাবাহক মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এর দেখানো সুন্নাহ অনুসারে।

‘আ’ইশাহ رضي الله عنه বর্ণনা করেছেনঃ আল্লাহর বার্তাবাহক صلى الله عليه وسلم বলেছেন, “কেউ যদি আমাদের (ইসলামিক একত্ববাদের) ধর্মে নেই এমন নতুন কিছুর প্রবর্তন করে তবে তা প্রত্যাখ্যাত।” [সহীহ বুখারী, গ্রন্থ ৫৩: বিবাদ মীমাংসা, হাদীস নং-২৬৯৭]

‘আ’ইশাহ رضي الله عنه কর্তৃক বর্ণিত আরেকটি হাদীছে রয়েছে, নাবী صلى الله عليه وسلم বলেছেনঃআমি আদেশ করি নি এমন কোন (ভাল) কাজ যদি কেউ করে, (অথবা যা আমাদের ধর্ম ইসলামিক একত্ববাদ অনুযায়ী হয় না), তাহলে তার সেই কাজ প্রত্যাখ্যাত এবং তা গ্রহণ করা হবে না [সহীহ বুখারী, গ্রন্থ ৯২: ক্বুরআন সুন্নাহ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা, হাদীস নং৪৪৯ এর পূর্বে, English Translation]

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ——— পৃষ্ঠা ১০/১১ ——— পরবর্তী পৃষ্ঠা >>

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: