//
আইয়াত ১৪-২৩

১৪. আমি তাদের হৃদয়কে (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের দৃঢ় প্রত্যয় দিয়ে) সুদৃঢ় এবং (নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও আবাসস্থল ত্যাগ করার মর্মবেদনা সহ্য করার মত ধৈর্যশক্তি দিয়ে) শক্ত করে দিয়েছিলাম। যখন তারা উঠে দাঁড়ালো এবং বলল, “আমাদের প্রভু হচ্ছেন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, আমরা কখনই তাঁকে ছেড়ে অন্য কোন ইলাহ (ঈশ্বর)-কে ডাকবোনা; যদি করি তাহলে তা অবিশ্বাসবশতঃ মারাত্মক ভুল হবে।

১৫. “আমাদের এই স্বজাতিরা তাঁকে (আল্লাহ) ছেড়ে গ্রহণ করেছে অন্য আলিহাহ (দেবতা)দের। এরা কেন তাদের সম্বন্ধে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসে না? তার চেয়ে বড় অন্যায়কারী আর কে যে আল্লাহর সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে?

১৬. (যুবকদের মধ্যে একজন আরেকজনকে বলল,) “যখন তোমরা তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে আর যাদের উপাসনা করে তাদের থেকে আলাদা হয়েছ, তখন গুহায় আশ্রয় নাও; প্রভু তাঁর করুণা বিস্তার করবেন তোমাদের জন্য এবং সহজ করে দেবেন তোমাদের পরিস্থিতি (অর্থাৎ জীবিকা ও আবাসের ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করে দেবেন।)

১৭. তুমি (ওখানে থাকলে) দেখতে পেতে সূর্য যখন উদিত হয় তখন তা তাদের গুহাকে পাশ কাটিয়ে ডানদিকে চলে যায়, আর যখন অস্ত যায় তখন তাদেরকে অতিক্রম করে বামদিক দিয়ে চলে যায়, আর তাদের অবস্থান ছিল গুহার মাঝখানে প্রশস্ত এক চত্বর জুড়ে। এগুলো আল্লাহর আইয়াতসমূহের (অর্থাৎ প্রমাণাদি, লক্ষণ ও নিদর্শনসমূহ) মধ্যে একটি। সেই সৎপথপ্রাপ্ত যাকে আল্লাহ সৎপথে চালান; কিন্তু তিনি যাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন, তাকে পথ দেখানোর জন্য তুমি কোন ওয়ালী (পথপ্রদর্শনকারী বন্ধু)
পাবে না।

১৮. তুমি তাদেরকে (দেখলে) মনে করতে তারা জেগে আছে, যদিও তারা ছিল ঘুমিয়ে। আমি তাদেরকে পাশ ফিরিয়ে দিতাম ডানে ও বামে, আর তাদের কুকুরটি [গুহা অথবা গুহার প্রবেশদ্বারের সামনের জায়াগায় (প্রবেশদ্বারের পাহাড়াদার হিসেবে)] প্রবেশপথের সামনে দু’পা বিছিয়ে থাকত। তুমি যদি তাদের দেখতে তবে অবশ্যই তাদের থেকে পালানোর জন্য পেছনে ফিরে আসতে এবং আতঙ্কিত হতে তাদের ভয়ে।

১৯. আর এভাবে আমরা তাদেরকে (সুদীর্ঘ নিদ্রা থেকে) জাগিয়ে তুলেছিলাম যেন তারা তাদের নিজেদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন বক্তা বলল, “তোমরা কতক্ষণ ছিলে (এখানে)?” কয়েকজন বলল, “আমরা এখানে (সম্ভবত) একদিন বা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি।” কয়েকজন বলল, “(একমাত্র) তোমাদের প্রভুই ভাল জানেন কতক্ষণ তোমরা (এখানে) ছিলে। এই রৌপ্যমুদ্রা দিয়ে তোমাদের একজনকে শহরে পাঠাও; সে যেন দেখে কোন্‌ খাবারটা ভাল, আর তা থেকে তোমাদের জন্য কিছু নিয়ে আসে। আর সে যেন সাবধান থাকে এবং কিছুতেই তোমাদের কথা কাউকে জানতে না দেয়।

২০. “কারণ যদি তারা তোমাদের সম্বন্ধে জানতে পারে তবে তোমাদের পাথর ছুড়বে (মেরে ফেলবে, কিংবা গালাগালি বা ক্ষতি করবে) অথবা তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেবে তাদের ধর্মে এবং সেক্ষেত্রে তোমরা কখনো সফলকাম হবে না।”

২১. আর এভাবে আমি ওদের বিষয়টি (লোকদের) জানিয়ে দিলাম, যেন তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং সেই সময়ের [ক্বিয়ামাহ] ব্যাপারে কোন সন্দেহ সংশয়ের অবকাশ নেই। (স্মরণ করো) যখন তারা (শহরবাসীরা) তাদের বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করছিল, (তাদের মৃতুর পর) কেউ কেউ বলল, “তাদের ওপর একটি সৌধ নির্মাণ করো; তাদের প্রভুই তাদের বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন;” (অতঃপর) যারা তর্কে জয়ী হলো তারা (সম্ভবত অবিশ্বাসীরা) বলল, “আমরা তাদের ওপরে একটি উপাসনালয় নির্মাণ করব

২২. কেউ কেউ বলে তারা ছিল তিন জন, কুকুরটি ছিল তাদের মধ্যে চতুর্থ; আবার কেউ বলে তারা ছিল পাঁচ জন, ওদের কুকুর নিয়ে ছয়জন, —অদৃশ্য সম্বন্ধে অনুমান করে মাত্র; (বরং কেউ কেউ আবার) বলে তারা ছিল সাতজন, আর ওদের কুকুর নিয়ে আটজন। (হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ) বলো, “তাদের সংখ্যা আমার প্রভুই ভালো জানেন; অল্প কয়েকজন ছাড়া তাদের কথা কেউ জানে না। কাজেই (তারা কয়জন ছিল এ ব্যাপারে) সুস্পষ্ট প্রমাণ (যা আমি তোমার কাছে প্রকাশ করেছি তা) ছাড়া তাদের সাথে তর্ক করো নাএবং তাদের সাথে (পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থের অনুসারী— ইহুদি ও খৃষ্টান) গুহাবাসী লোকদের (ঘটনার) ব্যাপারে কোন আলাপ-আলোচনা করো না।

২৩. আর কোন ব্যাপারে কখনই বলো না, “আমি এটা আগামীকাল করব।”

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ——— পৃষ্ঠা ২/১২ ——— পরবর্তী পৃষ্ঠা >>

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: