//
আইয়াত ২৪-৩৭

২৪. “যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন!” এটা (না বলা) ছাড়া, আর যখনই ভুলে যাও তোমার প্রভুকে স্মরণ করো এবং বলোঃ “হয়তো বা আমার প্রভু এর চেয়েও অধিকতর সত্যের পথে আমাকে পরিচালিত করবেন।”

২৫. এবং তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছিল তিনশো (সৌর) বছর, (চান্দ্রবৎসর এর হিসাব অনুযায়ী) আরও নয় (বছর)। (তাফসির আল-ক্বুরতুবি)

২৬. বলোঃ “আল্লাহ ভাল জানেন কতকাল তারা অবস্থান করেছিল। তাঁর কাছেই আছে মহাকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য (-এর জ্ঞান)। কতনা স্পষ্টভাবে তিনি (সবকিছু) দেখেন ও শুনেন! তিনি ছাড়া তাদের আর কোন ওয়ালী (সাহায্যকারী, বিবাদ মীমাংসাকারী, রক্ষাকর্তা) নেই, আর তিনি তার সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্বে কাউকে অংশী করেন না।

২৭. এবং (হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ) তোমার প্রভুর গ্রন্থের (ক্বুর’আন) থেকে যা তোমার ওপর প্রকাশিত হয়েছে তা আবৃত্তি করো (অর্থাৎ ক্বুর’আন আবৃত্তি করো, এর উপদেশ অনুধাবন ও অনুসরণ করো, এর আদেশ অনুযায়ী কাজ করো এবং মানুষের নিকট এর প্রচার করো)তাঁর বাণী কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না, এবং তাঁকে বাদ দিয়ে তুমি কোন আশ্রয়ও খুঁজে পাবে না।

২৮. এবং (হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم ) ধৈর্যসহকারে তাদের সাথে থাকো যারা সকালে ও সন্ধ্যায় তাদের প্রভুকে ডাকে [অর্থাৎ আপনার সঙ্গীসাথী স়হাবীগণ যারা প্রার্থনার (স়লাত) মাধ্যমে তাদের প্রভুর মহিমাকীর্তন ও প্রশংসাজ্ঞাপন করে এবং সৎকর্মের দ্বারা তাঁদের প্রভুকে স্মরণ করে], তাঁর প্রসন্নতা কামনা করে; আর পার্থিব জীবনের চাকচিক্য ও জৌলুস কামনা করে তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না; এবং যার হৃদয়কে আমার স্মরণ থেকে বেখেয়াল করে রেখেছি এবং যে তার নিজের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে, এবং যার পরিণাম (কার্যকলাপ) হল ধ্বংস তাকে অনুসরণ করো না

২৯. এবং বলোঃ “সত্য তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে এসেছে। কাজেই যার ইচ্ছা সে বিশ্বাস করুক, আর যার ইচ্ছা সে অবিশ্বাস করুক। নিশ্চয় আমি জ়লিমূনদের (মূর্তিপুজক এবং দুষ্কৃতিকারী) জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি, যার দেয়াল তাদের (আল্লাহর একত্বে অবিশ্বাসীদের) ঘিরে রাখবে। এবং তারা যদি কোন সাহায্য চায় (পরিত্রাণ, পানি), তাদেরকে জলন্ত তেলের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে, যা তাদের মুখমণ্ডলকে পুড়িয়ে ফেলবে। ভয়ানক সে পানীয় এবং এক মন্দ মুরতাফাক্ব (আবাসস্থল, বিশ্রামাগার)!

৩০. নিঃসন্দেহে যারা বিশ্বাস করেছে এবং ন্যায়নিষ্ঠ ভালকাজ করেছে, আর নিশ্চয় যারা সঠিকভাবে ন্যায়নিষ্ঠ ভালকাজ করেছে আমি তাদের পুরস্কার হারাতে দেই না

৩১. এদের জন্যই রয়েছে ‘আদ্‌ন (ইডেন) স্বর্গ (চিরস্থায়ী বাগান); যার নিচ দিয়ে বয়ে চলে ঝর্ণারাজি; তাদের সেখানে স্বর্ণের কাঁকন (ব্রেসলেট) দিয়ে অলংকৃত করা হবে, এবং তারা মিহি ও মোটা রেশমের পোষাক পরিধান করবে। তারা সেখানে সুউচ্চ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। কতনা ভালো সে পুরস্কার, আর কত চমৎকার মুরতাফাক্ব (আবাসস্থল, বিশ্রামাগার)!

৩২. আর তাদের নিকট দুই ব্যক্তির দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করঃ তাদের একজনকে আমি আঙ্গুরের দুটি বাগান দিয়েছিলাম এবং এ দুটিকে ঘিরে দিয়েছিলাম খেজুরগাছ দিয়ে; আর এদুয়ের মাঝখানে করেছি সবুজ শস্যক্ষেত্র (আবাদযোগ্য জমি)।

৩৩. বাগানদুটির প্রত্যেকটিই ফলফসল উৎপাদন করত এবং এতে কোন ত্রুটি করত না এবং এদুয়ের মাঝখানে আমি একটি নদী প্রবাহিত করেছিলাম।

৩৪. আর তার ছিল সম্পত্তি (অথবা ফলফসল), এবং কথা প্রসঙ্গে সে তার সঙ্গীকে বললঃ “আমি ধনসম্পদে তোমার তুলনায় শ্রেষ্ট এবং জনবলেও অনেক শক্তিশালী।” (তাফসীর ক্বুরতুবী)

৩৫. এবং সে তার বাগানে (দম্ভভরে অবিশ্বাসী অবস্থায়) নিজের প্রতি অবিচার করে প্রবেশ করলসে বললঃ “আমি মনে করি না এগুলো কখনো নষ্ট হবে

৩৬. “আর আমি মনে করি না যে সেই সময় কখনো আসবে, আর আমাকে যদি (পুনরুত্থানের দিনে) আমার প্রভুর কাছে ফিরিয়ে আনা হয়ও, নিশ্চয় যখন আমি তাঁর কাছে যাব আমি এর চেয়ে ভাল স্থান খুঁজে পাব

৩৭. তার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে তার সঙ্গী তাকে বললঃ “তুমি কি তাকেই অবিশ্বাস কর যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির উপাদান থেকে (অর্থাৎ তোমার পিতা আদাম), তারপর নুতফাহ থেকে (নর ও নারী থেকে নির্গত মিশ্রিত শুক্রকণা) এবং তারপর তোমাকে মানুষের আকৃতি দিয়েছেন?”

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ——— পৃষ্ঠা ৩/১২ ——— পরবর্তী পৃষ্ঠা >>

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: