//
আইয়াত (৩৮-৪৬)

৩৮. “তবে আমার ক্ষেত্রে, তিনিই আল্লাহ, আমার প্রভু, আর আমার প্রভুর সাথে আমি কাউকেই অংশীদার হিসেবে শরীক করি না।”

৩৯. “যখন তুমি বাগানে প্রবেশ করেছিলে, তখন এটা বললে তোমার জন্য ভালো হত যে, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন (তাই হবে)! আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি নেই!’ [১] তুমি যদি আমাকে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে তোমার চেয়ে কম দেখ,

৪০. “সেক্ষেত্রে হতে পারে আমার প্রভু আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে ভাল কিছু দান করবেন এবং তার ওপর আকাশ থেকে হুসবান (দুর্যোগ, বজ্র) পাঠাবেন, ফলে তা মসৃণ ময়দানে পরিণত হবে।

৪১. “অথবা অচিরেই (এই বাগান)এর পানি ভূগর্ভে তলিয়ে যাবে, ফলে তুমি আর তা খুঁজে পাবে না।”

৪২. তার ফলফসলকে (অনিষ্ট) ঘিরে ধরল। আর যখন তা এর মাচার ওপর ভেঙ্গে পড়ল তখন সে যা কিছু খরচ করেছিল তার ওপর (দুঃখে) হাত চাপড়াতে লাগলো। সে শুধু এটাই বলতে পারছিল যেঃ “হায়! যদি আমি আমার প্রভুর সাথে কোন অংশীদার শরীক না করতাম!” [তাফসীর ইবনু কাসীর]

৪৩. আর আল্লাহ ছাড়া তাকে সাহায্য করার জন্য কোন লোকজন তখন ছিল না। আর না সে নিজেও তাকে রক্ষা করতে (বা বাঁচাতে) পারছিল।

৪৪. সেখানে (পুনরুত্থানের দিনে) তাদের আল-ওয়ালাইয়াহ [নিরাপত্তা, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব এবং রাজত্ব] (কেবল) প্রকৃত ঈশ্বর, আল্লাহরই। তিনিই (আল্লাহ) পুরস্কারদানে শ্রেষ্ঠ আর চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণেও শ্রেষ্ঠ। (লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ — আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাসনার যোগ্য নয়)।

৪৫. তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উদাহরণ বর্ণনা করঃ আকাশ থেকে আমি যে পানি (বৃষ্টি) নামাই এটা তার মতই। যার ছোঁয়ায় পৃথিবীর উদ্ভিদসমূহ সতেজ ও সবুজ হয়। কিন্তু (পরে এক সময় তা) শুকিয়ে এমন চুরচুর হয় যে, বাতাস তা উড়িয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ সবকিছুই করতে সক্ষম।

৪৬. ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের অলঙ্কারস্বরূপ। কিন্তু তোমার প্রভুর কাছে স্থায়ী ভাল ন্যায়নিষ্ঠ সৎকাজ [২] পুরস্কারপ্রাপ্তির জন্য শ্রেয় এবং আশা পূরণের জন্যও শ্রেয়।


[১৮:৩৯] লা- হাওলা ওয়ালা- ক্বুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন ক্ষমতা ও শক্তি নেই) সম্পর্কে যা বলা হয়েছেঃ

আবু মূসা আস আশ’আরী বর্ণনা করেছেনঃ নাবী صلى الله عليه وسلم উঁচু জায়গা অথবা পাহাড়ে উঠছিলেন। (তাঁর সহচরদের থেকে) একজন এর ওপর উঠে উচ্চকন্ঠে বলতে লাগলেন লা- ইলা-হা ইল্লাল্‌ লাহু ওয়াল্লা-হু আকবার* আল্লাহর বার্তাবাহক صلى الله عليه وسلم
(তখন) তাঁর খচ্চরের ওপর ছিলেন। আল্লাহার বার্তাবাহক
صلى الله عليه وسلم বললেন, “তোমরা কোন বধির কিংবা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছ না।” তিনি আরো বললেন, ‘আবূ মূসা (অথবা ‘আব্দুল্লাহ)! আমি কি তোমাকে স্বর্গের ধনভাণ্ডারের একটি বাক্য বলব?” আমি বললাম, “হ্যাঁ বলুন।” তিনি বললেন, “লা- হাওলা ওয়ালা- ক্বুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ[সহীহ বুখারী, গ্রন্থ ৮০: দু’আ, হাদীস নং-৬৪০৯]

*আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাসনার যোগ্য নয়, এবং আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

[১৮:৪৬] ভাল ন্যায়নিষ্ঠ সৎকাজঃ অত্যাবশ্যকীয় পাঁচ সলাত, আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজকর্ম, সুন্দর ও শোভন কথাবার্তা এবং গুণকীর্তন, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ আল্লাহর স্মরণ।

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ——— পৃষ্ঠা ৪/১২ ——— পরবর্তী পৃষ্ঠা >>

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: