//
আইয়াত ৭৫-৮৮

ভাগ ১৬

৭৫. (খিদ্বর) বললঃ “আমি কি আপনাকে বলি নি যে, আপনি কখনই আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারবেন না?”

৭৬. [মূসা (মোসেস্‌)] বললঃ “যদি আমি এরপর আপনাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করি, আমাকে আপনার সাথে আর রাখবেন না, আমার পক্ষ থেকে আপনি একটি অজুহাত পেয়ে গেলেন।”

৭৭. অতঃপর তারা চলতে লাগল, যতক্ষণ না তারা এক শহরের অধিবাসীদের কাছে আসলেন, তারা তাদের কাছে খাবার চাইলেন, কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করলো। অতঃপর তারা সেখানে একটি দেয়াল দেখতে পেল, যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে (খিদ্বর) সেটিকে সোজাভাবে দাঁড় করে দিল। [মূসা (মোসেস্‌)] বললঃ “আপনি যদি চাইতেন এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন!”

৭৮. (খিদ্বর) বললঃ “এখানেই আপনার আর আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল, আপনি যে বিষয়গুলোতে ধৈর্য ধারণ করতে পারছিলেন না, আমি এখন আপনাকে (তার) ব্যাখ্যা দিচ্ছি।”

৭৯. “জলযানের বিষয়টি হল, তা ছিল কিছু মাসাকীনের (দরিদ্র লোকের) যারা সমুদ্রে কাজ করত আমি জলযানটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি কারণ তাদের পেছনে এক রাজা ছিল, যে জলযানগুলো জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছিল।

৮০. “আর বালকটির বিষয় হল, তার বাবা-মা ছিল বিশ্বাসী। আমি আশংকা করলাম পাছে সে বিরুদ্ধাচরণ ও অবিশ্বাসের দ্বারা তাদের অত্যাচার করে।

৮১. “কাজেই আমি চাইলাম, তাদের প্রভু যেন তাদেরকে ন্যায়নিষ্ঠতায় উত্তম এবং করুণার নিকটবর্তী কাউকে দিয়ে বদলে দেন

৮২. “আর প্রাচীরের বিষয়টি হল, তা ছিল শহরের দুজন অনাথ বালকের; এবং তার নিচে তাদের সম্পদ লুকায়িত ছিল; আর তাদের বাবা ছিল একজন ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ। আপনার প্রভু চাইলেন যে, তারা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের প্রভুর অনুগ্রহস্বরূপ তাদের সম্পদ বের করে নেবে। আর আমি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এসব কিছু করি নি। এগুলোই হচ্ছে সেসব জিনিসের ব্যাখ্যা যেসব (জিনিসের) ব্যাপারে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেন নি।”

৮৩. আর তারা তোমাকে যুল-ক্বরনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বলোঃ “আমি তার কাহিনীর কিছু অংশ তোমাদের সামনে আবৃত্তি করছি।”

৮৪. নিশ্চয় আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং তাকে সব কাজ সম্পাদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম।

৮৫. তারপর সে এক পথ ধরল।

৮৬. যতক্ষণ না সে সূর্যাস্তের স্থানে এসে পৌঁছল, সে সূর্যকে একটি কর্দমাক্ত (বা গরম) পানির ঝর্ণায় ডুবতে দেখতে পেল এবং সে এর কাছে একটি জনপদ দেখতে পেল। আমি বললাম (আল্লাহ তাকে প্রত্যাদেশ করলেন): “যুল-ক্বরনাইন! তুমি তাদের শাস্তি দিতে পারো, অথবা তাদের সাথে সদয় আচরণও করতে পারো।

৮৭. সে বললঃ “যে ব্যক্তি অন্যায় করে (আল্লাহর একত্বে অবিশ্বাস করে), আমরা তাকে শাস্তি দিব, আর তারপর তাকে তার প্রভুর নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে, যিনি তাকে (নরকে) ভয়ংকর যন্ত্রণা দেবেন।

৮৮. “কিন্তু যে ব্যক্তি (আল্লাহর একত্ববাদে) বিশ্বাস করে এবং ন্যায়নিষ্ঠ কাজ করে, সে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার (স্বর্গ) পাবে, এবং তার সাথে ব্যবহার করার সময় আমি (যুল-ক্বরনাইন) আমি সহজভাবে (আদেশ নির্দেশের) কথা বলব।

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ——— পৃষ্ঠা ৮/১২ ——— পরবর্তী পৃষ্ঠা >>

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: