//
আইয়াত ৮৯-১০১

৮৯. আবার সে এক পথ ধরল।

৯০. যতক্ষণ না সে সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছল, সেখানে সে দেখতে পেল, তা এমন এক জাতির ওপর উদয় হচ্ছে, যাদের জন্য আমি সূর্যের বিপরীতে কোন আড়ালের ব্যবস্থা করি নি।

৯১. (প্রকৃত ঘটনা) এরূপই! আর আমি তার ব্যাপারে (যুল-ক্বরনাইন) সবকিছুই জানতাম।

৯২. তারপর সে (অন্য) এক পথ ধরল,

৯৩. যতক্ষণ না সে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী একস্থানে এসে পৌঁছল, সে তাদের (দুই পাহাড়) সামনে (কাছে) এমন এক জাতির দেখা পেল যারা তার কথা কিছুই বুঝতে পারছিল না।

৯৪. তারা বলল, ‘যুল-ক্বরনাইন! নিশ্চয় ইয়া’জূজ ও মা’জূজ (Gog and Magog) [১] দেশে মারাত্মক অশান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আমরা কি আপনাকে এ জন্য কিছু সম্মাননা দেব যে, আপনি তাদের ও আমাদের মাঝখানে একটি প্রতিবন্ধক তৈরি করে দেবেন?

৯৫. সে বললঃ “(তোমাদের সম্মাননার চেয়ে) আমার প্রভু আমাকে যা কিছু (সম্পদ, কর্তৃত্ব, ক্ষমতা) দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা ঢের ভালো। সুতরাং আমাকে (জন)বল দিয়ে সাহায্য করো। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি প্রতিবন্ধক তৈরি করে দেব

৯৬. “আমাকে লোহার খণ্ডগুলো (পাত) দাও।” এরপর সে যখন দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী দুরারোহ জায়গাটি ভরাট করে ফেলল, তখন সে বললঃ “ফুঁ দাও,” এরপর যখন সে ওগুলোকে (লাল) আগুনের মত গরম করলো, সে বললঃ “এগুলোর ওপরে ঢালার জন্য গলিত তামা নিয়ে এসো।”

৯৭. ফলে তারা [ইয়া’জূজ ও মা’জূজ (Gog and Magog)] এটি ডিঙোতে পারল না, আর না পারল ভেদ করতে।

৯৮. (যুল-ক্বরনাইন) বললঃ “এটা আমার প্রভুর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ মাত্র। কিন্তু যখন আমার প্রভুর প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তিনি তখন একে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন। আর আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি চিরসত্য।

৯৯. আর সেদিন [যেদিন ইয়া’জূজ ও মা’জূজের আগমন ঘটবে] আমি তাদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের ওপর তরঙ্গের ন্যায় আছড়ে পড়বে আর শিঙায় ফুঁ দেয়া হবে, এবং আমি সবাইকে (সৃষ্টিকে) একত্রে জড়ো করব।

১০০. আর সেদিন আমি অবিশ্বাসীদের সামনে নরক এমনভাবে উপস্থাপন করবো যেন পরিস্কার ভাবে দেখা যায়—

১০১. (তাদের সামনে) যাদের চোখ আমার স্মারক (এই ক্বুর’আন) থেকে আবরণে ঢাকা ছিল আর যাদের (এটা) শোনার মত সহ্য ক্ষমতাও ছিল না।


(১৮:৯৪) ইয়া’জূজ ও মা’জূজ [গগ ও ম্যাগগ (জাতি)]: তাদের সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে দেখুন তাফসীর আল-ক্বুরতুবি, ভল. ২, পৃষ্ঠা ৫৫-৫৮।

যাইনাব বিন্তু জাহ্‌শ বর্ণনা করেছেন যে, একদিন আল্লাহর বার্তাবাহক صلى الله عليه وسلم উদ্বিগ্ন অবস্থায় এরূপ বলতে বলতে আমার ঘরে প্রবেশ করলেন যে, “লা— ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ (আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাসনার যোগ্য নয়)! আক্ষেপ আরবের জন্য মন্দ থেকে যা অতি নিকটবর্তী। বৃদ্ধাঙ্গুল ও তৎসংলগ্ন আঙ্গুল গোলাকৃতি করে তার দিকে ইশারা করে বললেন, “আজ ইয়া’জূজ ও মাজূজের দেয়ালে এ পরিমাণ খুলে গেছে।” যাইনাব বিন্তু জাহ্‌শ বলেন, আমি বললাম, “হে আল্লাহর বার্তাবাহক! আমাদের মাঝে সৎ লোকেরা উপস্থিত থাকা স্বত্তেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব?” উত্তরে তিনি বললেন, “হ্যাঁ, যদি আল-খবাছ* (মন্দ লোক) বৃদ্ধি পায়।” [সহীহ বুখারী, গ্রন্থ ৯২: ফিত্নাহ, হাদীস নং-৭১৩৫]

*আল-খবাছ শব্দটির ব্যাখ্যা করা হয়েছে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক, অবৈধ সন্তান এবং প্রত্যেক ধরণের মন্দ কাজ হিসেবে। (দেখুন ফাতহ্‌ আল-বারি, খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ২২৫)

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ——— পৃষ্ঠা ৯/১২ ——— পরবর্তী পৃষ্ঠা >>

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: