//
আল কুরআন আবৃত্তি করার পূর্বে আশ্রয় প্রার্থনা কর

আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন,

﴿فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْءَانَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَـنِ الرَّجِيمِ

(সুতরাং, যখন তোমরা কুর’আন আবৃত্তি কর, আল্লাহ্‌র কাছে নির্বাসিত (অভিশপ্ত) শাইতান থেকে আশ্রয় চাও।), অর্থাৎ কুর’আন তিলাওয়াত এর পূর্বে। একইভাবে অন্যত্র আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন,

﴿إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلوةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ﴾

(যখন তোমরা আস-সলাহ (নামায) এর জন্য দাঁড়াবার ইচ্ছা কর, তোমাদের মুখ ও হাত (কনুই পর্যন্ত) ধুয়ে নিবে।) (৫:৬) অর্থাৎ নামাযে দাঁড়ানোর পূর্বে। ইমাম আহ্‌মাদ লিখেছেন যে, আবু সা’ইদ আল-খুদ্‌রি বলেছেন, “যখন আল্লাহ্‌র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামযে দাঁড়াতেন, তিনি তাকবির দিয়ে নামায শুরু করতেন (বলতেন “আল্লাহু আকবার”; আল্লাহ্‌ মহান) এবং এরপর এই দোয়া বলতেন,

«سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ»

(সকল প্রশংসা ও ধন্যবাদ হে আল্লাহ্‌র আপনার জন্য। পবিত্র আপনার নাম, সুমহান আপনার সার্বভৌমত্ব, এবং আপনি ছাড়া আর কোন ঈশ্বর নেই।)

তিনি এরপর তিনবার বলতেন,

«لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ»

আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাসনার যোগ্য নয়।

তারপর তিনি বলতেন,


«أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزَهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ»

আমি সর্বশ্রোতা, সবজান্তা, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, অভিশপ্ত শাইতন এর বশ্যতা থেকে, যা অহংকার ও কবিতার দিকে প্রলুব্ধ করে।

সুনান এর চার সংগ্রাহক এই হাদীসটি রেকর্ড করেছেন, যেটা আত-তিরমিধি এর মতে এই বিষয়ে সবচেয়ে পরিচিত হাদীস।

আবু দাউদ এবং ইবনু মাজাহ লিপিবদ্ধ করেছেন যে, জুবাইর বিন মুত’ইম বলেছেন যে, তাঁর বাবা বলেছেন, “যখন নাবী صلى الله عليه وسلم সলাতে দাঁড়াতেন, তিনি বলতেন,

«اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا ثَلَاثًا الْحَمْدُ للهِ كَثِيرًا ثَلَاثًا سُبْحَانَ اللهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ثَلَاثًا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ»

(আল্লাহ্‌ মহান, সত্যিই মহান (তিনবার); সকল প্রশংসা সবসময় আল্লাহ্‌র জন্য (তিনবার); এবং সকল প্রশংসা দিন-রাত আল্লাহ্‌র জন্য (তিনবার)হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার কাছে অভিশপ্ত শাইতান থেকে আশ্রয় চাই, তার হাম্‌য, নাফ্‌খ ও নাফ্‌স থেকেও (আশ্রয় চাই)।) আম্‌র বলেছেন, হাময মানে হচ্ছে গলাচেপে ধরা, নাফখ মানে হচ্ছে অহংকার, এবং নাফস মানে হচ্ছে কবিতা।” ইবনু মাজাহ আরও লিখেছেন যে, আলি বিন আল-মুনযির বলেছেন যে, ইবনু ফুদাইল বর্ণনা করেছেন যে, আতা’ বিন আস-সা’ইব বলেছেন যে, আবু আব্দুর-রাহ্‌মান আস-সুলামি বলেছেন যে, ইবন্‌ মাস’উদ বলেছেন যে, নাবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন,

«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيطَانِ الرَجِيمِ وَهَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ»

(হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার কাছে অভিশপ্ত শাইতান থেকে আশ্রয় চাই, তার হাম্‌য, নাফ্‌খ ও নাফ্‌স থেকেও (আশ্রয় চাই)।)

তিনি বলেছেন, “হাময মানে হচ্ছে মৃত্যু, নাফখ মানে হচ্ছে দাম্ভিকতা, এবং নাফস মানে হচ্ছে কবিতা।

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ▬▬▬▬▬ পরের পৃষ্ঠা >>

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: