//
সলাতে সশব্দে বাস্মালাহ

যারা মনে করেন বাসমালাহ্‌ আল-ফাতিহার কোন অংশ নয়, তাঁরা বলে থাকেন যে বাসমালাহ্‌ নামাযে উচ্চস্বরে পড়তে হবেনা। ইসলামিক বিশেষজ্ঞগণ যারা বলেছেন যে বিসমিল্লাহ প্রত্যেক সুরাহ্‌ এরই একটি আয়াহ্‌ (৯ নং সুরাহ্‌ বাদে) তাঁরা এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ, যেমন আশ-শাফি’ই বলেছেন যে, আল-ফাতিহার সাথে বিসমিল্লাহ জোরে পড়া উচিৎ। অধিকাংশ সাহাবি, তাবি’ইন এবং পরবর্তী প্রজন্মের সালাফ ইমামরাও এই মত পোষণ করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, ইবন্‌ আব্দুল-বার্‌ এবং আল-বাইহাক্বি অনুসারে যারা জোরে পড়ার পক্ষপাতী ছিলেন তাঁরা হলেন,

  • আবু হুরাইরাহ্‌
  • ইবন্‌ উমার
  • ইবন্‌ আব্বাস
  • মুয়াউইয়াহ্‌
  • উমার
  • আলি রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম

যেসকল তাবি’ইন এই তাফসির দিয়েছেন, তাঁরা হলেন,

  • সা’ইদ বিন জুবাইর
  • ইক্‌রিমাহ্‌
  • আবু ক্বিলাবাহ্‌
  • আয-যুহরি
  • আলি বিন আল-হাসান
  • সা’ইদ বিন আল-মুসায়ইব
  • আতা’
  • তাউস
  • মুজাহিদ
  • সালিম
  • মুহাম্মাদ বিন কা’ব আল-ক্বুরাযি
  • আবু বাকর্‌ বিন মুহাম্মাদ বিন ‘আমর্‌ বিন হাযম্‌
  • আবু ওয়া’ইল
  • ইবন্‌ সিরিন
  • মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির
  • আলি বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস
  • নাফি’, ইবন্‌ উমার এর মুক্ত দাস
  • যাইদ বিন আসলাম
  • উমার বিন আবদুল-আযিয
  • আল-আযরাক বিন কাইস
  • হাবিব বিন আবি থাবিত
  • আবু আশ-শা’থা’
  • মাখুল
  • আবদুল্লাহ বিন মা’ক্বিল বিন মুক্বার্‌রিন

আল-বাইহাক্বি এই তালিকায় আরও সংযুক্ত করেছেন;

  • আবদুল্লাহ বিন সাফওয়ান
  • মুহাম্মাদ বিন আল-হানাফিইয়াহ্‌

ইবন্‌ আবদুল-বার্‌ আরও যোগ করেছেন

  • ‘আমর্‌ বিন দিনার

যে প্রমাণের উপর এই সকল বিশেষজ্ঞগণ নির্ভরশীল ছিলেন সেটা হচ্ছে, যেহেতু বিসমিল্লাহ আল-ফাতিহার অংশ সুতরাং এটা আল-ফাতিহার বাকি অংশের মত উচ্চস্বরেই পড়তে হবে। আন-নাসা’ই তাঁর সুনান-এ, ইবন্‌ হিব্বান এবং ইবন্‌ খুযায়মাহ্‌ তাঁদের সহীহ-তে এবং আল-হাকিম তাঁর মুসতাদরাক এ লিখেছেন যে, আবু হুরাইরাহ্‌ একদিন নামাযে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ উচ্চারণ করেন। নামায শেষে তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে আমি এখন যে নামায পড়লাম, সেটা নাবী صلى الله عليه وسلم –এর নামাযের সঙ্গে সবচাইতে সাদৃশ্যপূর্ণ।” আদ-দারাক্বুতুনি, আল-খতিব এবং আল-বাইহাক্বি এই হাদীথটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। সহীহ আল-বুখারি তে আছে, আনাস বিন মালিক কে নবীজির আবৃত্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, “তাঁর আবৃত্তি ছিল ধিরস্থির।” তিনি তারপর সেটা নিজে করে দেখালেন যেখানে তিনি বিসমিল্লাহ আর-রহমান আর-রহীম প্রলম্বিত করে আবৃত্তি করেছেন। ইমাম আহমাদ এর মুসনাদ, আবু দাউদ এর সুনান, সহীহ ইবন্‌ হিব্বান এবং আল-হাকিম এর মুসতাদরাক্‌ এ বর্ণনা আছে যে, উমম্‌ সালামাহ্‌ বলেছেন, আল্লাহর রসূল صلى الله عليه وسلم আবৃত্তি করার সময় প্রত্যেক আয়াহ্‌ আলাদা আলাদা করে পড়তেন।

﴿بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـنِ الرَّحِيمِ – الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَـلَمِينَ – الرَّحْمَـنِ الرَّحِيمِ – مَـلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴾

আদ-দারাক্বুতুনি এই হাদীসটির ধারাবাহিক বর্ণনাকারীদের সহীহ বলেছেন। উপরন্তু, ইমাম আবু ‘আবদুল্লাহ আশ-শাফি’ই এবং আল-হাকিম তাঁর মুসতাদরাক্‌ লিখেছেন যে, আল-মাদিনাহ্‌ -তে মু’আউইয়াহ্‌ একটি নামযের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন যেখানে তিনি বিসমিল্লাহ বলেন নি। ঐ নামযে যে সকল মুহাজিরিন ছিলেন, তারা এর সমালোচনা করেন। পরবর্তীতে মু’আউইয়াহ্‌ যে নামায পড়িয়েছেন তাতে তিনি বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে বলেছেন। এখানে যে সকল হাদীসের উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে, এগুলা এইমতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণ দেয় যে, বিসমিল্লাহ জোরে পড়া হত। অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাযে বিসমিল্লাহ সশব্দে পড়া উচিৎ না, এবং এটা চার খলিফাহ এবং সেই সাথে ‘আবদুল্লাহ্‌ বিন মুগফফাল এবং তাবি’ইন দের মধ্য থেকে অনেকে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত রীতি। এটা আবু হানিফাহ্‌, আস-সাওরি এবং আহমাদ্‌ বিন হানবাল্‌ এরও মায্বহাব (মত)। ইমাম মালিক উল্লেখ করেছেন যে, বিসমিল্লাহ সশব্দে কিংবা নিঃশব্দে কোনভাবেই পড়া হয় না। এই দলটি ইমাম মুসলিম এর নিম্নোক্ত হাদীথটির উল্লেখ করে এই কথা বলে থাকেন। হাদীসটি হচ্ছে, ‘আ’ইশাহ্‌ বলেছেন যে, আল্লাহ্‌র রসূল তাকবির (আল্লাহু আকবার; আল্লাহ্‌ মহান) দিয়ে নামায শুরু করতেন এবং তারপর বলতেন,

﴿الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَـلَمِينَ ﴾

(সকল প্রশংসা এবং ধন্যবাদ আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি সকল সৃষ্টিজগতের প্রভু।) [ইবনু আবু হাতিম ১:২]

সহীহ দুই গ্রন্থে (বুখারি ও মুসলিম) লিপিবদ্ধ আছে যে, আনাস বিন মালিক বলেছেন, “আমি নবীজি, আবু বাকর্‌, ‘উমার এবং ‘উসমান এর পিছনে নামায পড়েছি এবং তাঁরা

﴿الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَـلَمِينَ ﴾

এটা দিয়ে নামায শুরু করতেন।

মুসলিম যোগ করেছেন, ” এবং তাঁরা আবৃত্তির শুরু কিংবা শেষে কোথাও বলেন নি যে

﴿بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـنِ الرَّحِيمِ ﴾

একই ধরণের বর্ণনা রয়েছে ‘আবদুল্লাহ বিন মুগফফাল (আল্লাহ্‌ তাঁর উপর সন্তুষ্ট থাকুক) –এর সুনান গ্রন্থে। এই সবগুলো মতামতই শ্রদ্ধেয় ইমামদের এবং তাঁরা এব্যাপারে একমত যে আল-ফাতিহাহ্‌ এর সাথে বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে কিংবা আস্তে যেভাবেই পড়া হোক, দুটোই সঠিক। সব দয়া, আনুকূল্য এবং অনুগ্রহ আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে।

<< পূর্বের পৃষ্ঠা ▬▬▬▬▬ পরের পৃষ্ঠা >>

Advertisements

আলোচনা

One thought on “সলাতে সশব্দে বাস্মালাহ

  1. আপনাদের উদ্যোগ অনেক ভালো, আল্লাহ্ আপনাদেরকে প্রতিদান দিন। আমীন!

    Posted by mohiuddin | মার্চ 22, 2016, 7:45 অপরাহ্ন

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: