//
আল-ফাতিহার গুণাবলী

ইমাম আহমাদ বিন হানবাল তাঁর মুসনাদে লিখেছেন যে আবু সা’ইদ বিন আল-মু’আল্লা বলেছেন, “যখন আমি নামায পড়ছিলাম, এমন এক সময় রাসুল আমাকে ডাকছিলেন, কিন্ত নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁর জবাব দেইনি। যখন আমি তাঁর কাছে গেলাম, তিনি বললেন, কি জন্য তুমি আসতে পারছিলেনা? আমি বললাম, ‘ হে রাসুলুল্লাহ, আমি নামায পড়ছিলাম।’ (তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ কী বলেননি),


﴿يأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُواْ اسْتَجِيبُواْ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ﴾

(হে বিশ্বাসীগণ! (আনুগত্যের মাধ্যমে) আল্লাহ্‌ ও (তাঁর) বার্তাবাহকের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি (মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم) তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের সত্যিকার অর্থে জীবন দান করবে।) তিনি তারপর বললেন,

«لَأُعَلِّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ»

(মাসজিদ ছাড়ার পূর্বে আমি তোমাকে কুর’আনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সুরাহ শিখিয়ে দিচ্ছি।) তিনি এরপর আমার হাত ধরলেন এবং যখন মসজিদ ছাড়তে উদ্যত হলেন, আমি বললাম, ‘ হে রাসুলুল্লাহ! আপনি বলেছিলেনঃ আমি তোমাকে কুর’আনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সুরাহ্‌ শিখিয়ে দিব।’ তিনি বললেন,

﴿الْحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَـلَمِينَ ﴾

(আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামিন)

«نَعَمْ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ»

( আমাকে মহিমান্বিত কুর’আন এবং এই সাতটি পুনঃ পুনঃ আবৃত আয়াত দেয়া হয়েছে।)”

আল-বুখারি, আবু দাউদ, আন-নাসা’ই এবং ইবন্‌ মাজাহ্‌- ও এই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

ইমাম আহমাদ হতে বর্ণিত আরেকটি হাদীস থেকে পাওয়া যায়, আবু হুরায়রাহ্‌ বলেছেন, “একদা উবায় বিন কা’ব নামায পড়ছিলেন, এমন এক সময় আল্লাহ্‌র রসূল বাইরে যাওয়ার সময় উবায় কে ডাক দিলেন। কিন্ত উবায় জবাব দেন নি। নবিজি আবার তাকে ডাকলেন, হে উবায়! উবায় তাড়াতাড়ি করে নামায শেষ করে নবিজির কাছে এসে বললেন, ‘ হে রাসুলুল্লাহ, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক!’ তিনি (নবিজি) বললেন, তোমার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। হে উবায়, যখন আমি তোমাকে ডাকছিলাম, তুমি জবাব দিচ্ছিলেনা কেন? তিনি (উবায়) বললেন, ‘ হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমি নামায পড়ছিলাম।’ তিনি বললেন, (তুমি কী এটা পড় নি, যেটা আল্লাহ্‌ আমাকে পাঠিয়েছেন,)

﴿اسْتَجِيبُواْ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ﴾

(আনুগত্যের মাধ্যমে) আল্লাহ্‌ ও (তাঁর) বার্তাবাহকের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি (মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم) তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের সত্যিকার অর্থে জীবন দান করবে।) তিনি বললেন, ‘ হে রাসুলুল্লাহ! আমি শুনেছি। আমি দ্বারা আর এরকম হবেনা।’ নাবী صلى الله عليه وسلم বললেন,

«أَتُحِبُّ أَنْ أُعَلِّمَكَ سُورَةً لَمْ تَنْزِلْ لَا فِي التَّورَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ وَلَا فِي الزَّبُورِ وَلَا فِي الْفُرْقَانِ مِثْلَهَا؟»

তুমি কি চাও আমি তোমাকে এমন একটি সুরাহ্‌ শিখাই, যার মত কোন সুরাহ সমগ্র তাওরাহ্‌, ইনজিল, যাবুর অথবা ফুরকান (কুর’আন) এ অবতীর্ণ হয় নি? তিনি বললেন, ‘ অবশ্যই, হে রাসুলুল্লাহ্‌!’ নাবী صلى الله عليه وسلم বললেন, আমি আশা করি, আমি দরজা দিয়ে বের হওয়ার আগেই তুমি এটা মুখস্থ করে ফেলবে। কা’ব বলেন, ‘কথা বলার সময় রাসুলুল্লাহ আমার হাত ধরে ছিলেন। অন্যদিকে আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, কথা শেষ করার আগেই হয়ত তিনি দরজায় পৌঁছে যাবেন। যখন তিনি দরজার একদম কাছাকাছি চলে আসলনে, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে রাসুলুল্লাহ! সেই সুরা কোনটি যেটা আপনি আমাকে শেখাতে চাইছিলেন।’ তিনি উত্তরে বললেন, নামাযে তুমি যেটা পড়। উবায় বললেন, ‘আমি উমম আল-কুর’আন তিলাওয়াত করে তাঁকে শুনালাম।’ তিনি বললেন,

«وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَنْزَلَ اللهُ فِي التَّورَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ وَلَا فِي الزَّبُورِ وَلَا فِي الْفُرْقَانِ مِثْلَهَا إِنَّهَا السَّبْعُ

الْمَثَانِي»

(যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, আল্লাহ্‌ সমগ্র তাওরাহ্‌, ইনজিল, যাবুর অথবা কুর’আন এই রকম আর একটি সুরাও নাযিল করেননি। এটা হচ্ছে সাতটি পুনঃ পুনঃ আবৃত আয়াত, যা আমাকে দেয়া হয়েছে।)

আত-তিরমিযীও এই হাদীসটি লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর বর্ণনায়, নাবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন,

«إِنَّهَا مِنَ السَّبْعِ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنِ الْعَظِيمِ الَّذِي أُعْطِيتُهُ»

( আমাকে মহিমান্বিত কুর’আন এবং এই সাতটি পুনঃ পুনঃ আবৃত আয়াত দেয়া হয়েছে।) আত-তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

আত-তিরমিধি এবং আন-নাস’ই লিখেছেন, আবু হুরইরহ, উবায় বিন কা‘ব থেকে বলেছেন যে রাসুলুল্লাহ বলেছেন,

«مَا أَنْزَل اللهُ فِي التَّورَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ مِثْلَ أُمِّ الْقُرْآنِ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَهِيَ مَقْسُومَةٌ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ»

(আল্লাহ্‌ তাওরাহ অথবা ইনজিল এ উমম আল-কুরা’আন এর মত আর কিছু নাযিল করেন নি।

তা হচ্ছে সাতটি পুনঃপুনঃ আবৃত পঙক্তি এবং এটি আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত)

আন-নাসা’ঈর এভাবে উল্লেখ করেছেন। আত-তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।

ইমাম আহমাদ হতে বর্ণিত, ইবন জাবির বলেছেন, “রাসুলুল্লাহ পানি ঢালছিলেন (পবিত্রতার জন্য) এমন এক সময় তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, ‘হে রাসুলুল্লাহ! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ তিনি আমার জবাব দেন নি। তাই আমি আবার বললাম, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসুল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ তারপরও তিনি আমার জবাব দেননি। তাই আমি আবারও বললাম, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসুল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ কিন্ত এরপরও তিনি কোন জবাব দেননি। রাসুলুল্লাহ চলতে শুরু করলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি তার বাসায় পৌঁছালেন আমি তাকে অনুসরণ করতে লাগলাম। অবশেষে আমি মাসজিদ এ যেয়ে বিষণ্ণ এবং দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বসে পড়লাম। আল্লাহ্‌র রাসুল তাঁর পবিত্রতা সম্পূর্ণ করে আমাকে এসে বললেন, আল্লাহ্‌র দয়া এবং শান্তি তোমার উপর বর্ষিত হোক, আল্লাহ্‌র দয়া এবং শান্তি তোমার উপর বর্ষিত হোক, আল্লাহ্‌র দয়া এবং শান্তি তোমার উপর বর্ষিত হোক, তিনি এরপর বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ বিন জাবির! আমি কি তোমাকে কুর’আনের সবচাইতে ভাল সুরাহ কোনটা সেটা তোমাকে জানাব? আমি বললাম, ‘অবশ্যই, হে রাসুলুল্লাহ!’ তিনি বললেন, বল, ‘সকল প্রশংসা ও ধন্যবাদ আল্লাহ্‌র জন্যে, যিনি বিশ্বজগতের প্রভু,’ এর শেষ পর্যন্ত।”

এই হাদীসটির ধারাবাহিক বর্ণনাকারীগণ বেশ ভাল।

কিছু বিশেষজ্ঞ এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে বলেন যে কিছু কিছু আয়াত এবং সুরার বৈশিষ্ট্য অন্য সুরাহ বা আয়াতের চাইতে বেশি।

মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং আন-নাসাঈ তাঁর সুনানে লিখেছেন যে ইবন ‘আব্বাস বলেছেন, “যখন জিব্রিল আল্লাহ্‌র রাসুলের সাথে ছিলেন, এমন এক সময় তিনি উপর থেকে আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আকাশের একটা দরজা খোলা হচ্ছে, যেটা আগে কখনো খোলা হয়নি।’ সেই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা রাসুলুল্লাহ্‌র কাছে নেমে এসে বললেন, ‘দুটি আলো পাওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যেটা আপনার আগে আর কোন নাবী পায়নিঃ আল-ফাতিহাহ্‌ এবং সুরা আল-বাকারাহ্‌ এর শেষ (তিন) আয়াত। এগুলোর দ্বারা আর কিছু নয়, শুধু সুফল লাভ করবেন।”

এটা আন-নাসা’ঈর বর্ণনা (আল-কুব্রা ৫:১২) এবং মুসলিমও অনুরূপ লিপিবদ্ধ করেছেন (১:৫৫৪)

<< পূর্বের পৃষ্ঠা  ▬▬▬▬▬ পরের পৃষ্ঠা >>


Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: