//
সূরা আল-বাক্বরহ এর গুণাবলী

মুসনাদ আহমাদ, সহীহ মুসলিম, আত-তিরমিযী এবং আন-নাসাঈতে বর্ণিত আছে, আবূ হুরইরহ رضي الله عنه বলেছেন যে, নাবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন,

«لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا فَإِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ لَا يَدْخُلُهُ الشَّيْطَان»

(তোমরা নিজেদের ঘরকে কবরে পরিণত করো না। নিশ্চয় শাইতন সে ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে সূরা আল-বাক্বরহ আবৃত্তি করা হয়।) আত-তিরমিযী বলেছেন, “হাসান সহীহ”।

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ বলেছেন, “শাইতন সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়, যেখানে সূরা আল-বাক্বরহ শোনা যায়।”

আন-নাসা’ঈ তাঁর আল-ইয়াউম ওয়াল লাইলাহ নামক গ্রন্থে এবং আল-হাকিম তাঁর মুস্‌তাদ্‌রাক এ এটি লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁরা এই হাদীসটির বর্ণনার ধারাবাহিকতা সহীহ বলেছেন, যদিও দুই সহীহাইনে এটি লিপিবদ্ধ নেই। আদ-দারিমি তার লিখেছেন, ইবনু মাসঊদ رضي الله عنه বলেছেন, “যে ঘরে সূরা আল-বাক্বরহ পড়া হয়, সেই ঘর থেকে শাইতন বায়ু নিঃসরণ করতে করতে পলায়ন করে। আদ-দারিমিতে আরও বর্ণিত আছে যে, আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ رضي الله عنه বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাক্বরহ থেকে দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার ঘরে ঐ রাতে আর শাইতন প্রবেশ করবেনা। (এই দশটি আয়াত হচ্ছে) প্রথম চারটি আয়াত, আয়াত আল-কুরসি (২৫৫), তার পরবর্তী দু’টি আয়াত (২৫৬-২৫৭) এবং শেষ তিনটি আয়াত। অন্য এক বর্ণনায় ইবনু মাস’উদ বলেছেন, “শয়তান তার কিংবা তার পরিবারের আশেপাশে ঘেঁষতে পারবে না, এবং কোন খারাপ জিনিস কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে না। এ আয়াতগুলি মানসিক বিকারগ্রস্ত লোকের ওপর পড়লে তার মানসিক অসুস্থতা দূর হয়ে যায়।

সাহল্‌ বিন সা’দ (রদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। নাবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন,

«إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ سَنَامًا، وَإِنَّ سَنَامَ الْقُرْآنِ الْبَقَرَةُ، وَإِنَّ مَنْ قَرَأَهَا فِي بَيْتِهِ لَيْلَةً لَمْ يَدْخُلْهُ الشَّيْطَانُ ثَلَاثَ لَيَالٍ، وَمَنْ قَرَأَهَا فِي بَيْتِهِ نَهَارًا لَمْ يَدْخُلْهُ الشَّيْطَانُ ثَلَاثَةَ أَيَّام»

(প্রত্যেক জিনিসেরই একটি সর্বোচ্চ চূড়া থাকে আর আল-বাক্বরহ্‌ হচ্ছে কুর’আনের সেই সর্বোচ্চ চূড়া। যে ব্যক্তি রাতে এই সূরা পাঠ করবে, শাইতন তিন রাত আর ঐ ঘরে প্রবেশ করবে না। যে ব্যক্তি দিনের বেলায় তার ঘরে পড়বে, শাইতন তিন দিন পর্যন্ত সেই ঘরে আর প্রবেশ করবে না।) হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন আবূ আল-ক্বসিম আত-তাবারনী, আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে এবং ইবনু মারদুইয়াহ।

আত-তিরমিযী, আন-নাসা’ঈ ও ইবনু মাজা বর্ণনা করেছেন যে, আবূ হুরইরহ (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, “একবার আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সেনাবাহিনীকে এক জায়গায় পাঠালেন এবং তিনি তার নেতৃত্বভার এমন এক ব্যক্তির উপর অর্পণ করলেন যিনি বলেছিলেনঃ ‘আমার সূরা বাক্বরহ মুখস্থ আছে।’ সে সময় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বললেনঃ ‘আমিও তা মুখস্থ করতাম। কিন্তু পরে আমি এই ভয় করছিলাম যে, না জানি আমি তার উপর ‘আমাল করতে পারবো কিনা।’

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

« تَعَلَّمُوا القُرْآنَ وَاقْرَءُوهُ، فَإِنَّ مَثَلَ الْقُرْآنِ لِمَنْ تَعَلَّمَهُ فَقَرَأَ وَقَامَ بِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ مَحْشُوَ مِسْكًا يَفُوحُ رِيحُهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ، وَمَثَلُ مَنْ تَعَلَّمَهُ فَيَرْقُدُ وَهُوَ فِي جَوْفِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ أُوكِيَ عَلى مِسْك»

(কুর’আন শিখ এবং আবৃত্তি করো। যে ব্যক্তি কুর’আন শিখে ও পাঠ করে, এবং এর উপর ‘আমাল করে, তার উদাহরণ হচ্ছে মিশ্ক পরিপূর্ণ পাত্র, যার সুগন্ধি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি কুর’আন শিখে এবং এরপর স্মরণ থাকা অবস্থায়ও ঘুমিয়ে পড়ে [অর্থাৎ অলস], তার উদাহরণ হচ্ছে সেই ব্যাগের মত যার মধ্যে মিশ্‌ক তো ভরা রয়েছে, তবে উপর হতে মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।)

এটা আত-তিরমিযীর বর্ণনা। তিনি একে হাসান বলেছেন। অন্য একটি বর্ণনায় তিনি এর মুরসাল বর্ণনাও করেছেন। সুতরাং আল্লাহই ভাল জানেন।

আল-বুখারী লিখেছেন যে, উদাইদ বিন হুদাইর বলেছেন যে, তিনি একবার সূরা আল-বাক্বরহ আবৃত্তি করছিলেন। তার ঘোড়াটি এসময় তার পাশেই বাঁধা ছিল। হঠাৎ করে ঘোড়াটি লাফাতে শুরু করল। তিনি তখন তিলাওয়াত বন্ধ করে দিলেন, আর ঘোড়াটিও থেমে গেল। তিনি যখন পুনরায় আবৃত্তি শুরু করলেন, ঘোড়াটি আবার লাফাতে শুরু করল। যখনই তিনি পড়া শুরু করছিলেন তখনই ঘোড়াটি লাফাতে শুরু করছিল, আবার যখনই আবৃত্তি বন্ধ করে দিচ্ছিলেন তখন ঘোড়াটিও থেমে যাচ্ছিল। তার শিশুপুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল, তিনি ভয় পেলেন যে হয়তো ঘোড়াটির কারণে তার ছেলের গায়ে আঘাত লেগে যাবে। তিনি যখন তার ছেলেকে উঠিয়ে নিলেন তখন তিনি আকাশে আলোকোজ্জ্বল মেঘ দেখতে পেলেন। পরেরদিন সকালে তিনি নাবীর কাছে আসলেন এবং গতকালের কথা সব খুলে বললেন। “হে আল্লাহর রসূল ‌صلى الله عله وسلم আমার ছেলে ইয়াহইয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল, তাই আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে না জানি ঘোড়াটির কারণে আমার ছেলে কোন আঘাত পেয়ে বসে। যখন আমি ওর কাছে গেলাম এবং আকাশের দিকে তাকালাম, আমি আলো ঝলমলে বাতির মত মেঘ দেখতে পেলাম। আমি বাইরে বের হতেই তা মিলিয়ে গেল। নাবী صلى الله عليه وسلم বললেন, “তুমি কি জান সেটা কী ছিল?” সে বলল, “না।” নাবী صلى الله عليه وسلم বললেন,

«تِلْكَ الْمَلَائِكَةُ دَنَتْ لِصَوْتِكَ وَلَو قَرَأْتَ لَأَصْبَحْتَ يَنْظُرُ النَّاسُ إِلَيْهَا، لَا تَتَوارَى مِنْهُم»

(তারা ছিল স্বর্গদূত [ফেরেশতা], তোমার [আবৃত্তি করার] শব্দ শুনে তারা তোমার কাছে এসেছিল। তুমি যদি তোমার পড়া অব্যাহত রাখতে, তাহলে লোকেরা সকালবেলায় স্বর্গদূতদের দেখতে পেত। একজন ফেরেশতাও তাদের চোখ এড়াতো না।)

ইমাম আবূ উবাইদ আল-ক্বসিম বিন সালাম তার ফাদা’ইল আল-ক্বুর’আন গ্রন্থে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

প্রথম পৃষ্ঠা ▬▬▬▬▬ পরের পৃষ্ঠা >

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: