//
সূরাহ আল-বাক্বরহ্‌ ও আল ‘ইমরন এর গুণাগুণ

ইমাম আহমাদ বলেছেন যে, আবু নু’আইম তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, বিশ্‌র বিন মুহাজির বলেছেন যে, ‘আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ তার পিতার থেকে তার কাছে বলেছেন যে, “আমি নাবী (ﷺ) এর পাশে ছিলাম, তাকে বলতে শুনেছি,

«تَعَلَّمُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ، وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ، وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَة»

(সূরা আল-বাক্বরহ শেখো, কারণ এতে কল্যাণ রয়েছে, অবহেলা করাটা দুঃখজনক। আর যাদুকরেরা এটা কখনো মুখস্থ করতে পারবে না।)

তিনি এরপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললেন,

«تَعَلَّمُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَآلَ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا الزَّهْرَاوَانِ، يُظِلَّانِ صَاحِبَهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ غَيَايَتَانِ أَوْ فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ، وَإِنَّ الْقُرآنَ يَلْقى صَاحِبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِينَ يَنْشَقُّ عَنْهُ قَبْرُهُ كَالرَّجُلِ الشَّاحِبِ فَيَقُولُ لَهُ: هَلْ تَعْرِفُنِي؟ فَيَقُولُ: مَا أَعْرِفُكَ. فَيَقُولُ: أَنَا صَاحِبُكَ الْقُرْآنُ الَّذِي أَظْمَأْتُكَ فِي الْهَوَاجِرِ وَأَسْهَرْتُ لَيْلَكَ وَإِنَّ كُلَّ تَاجِرٍ مِنْ وَرَاءِ تِجَارَتِهِ، وَإِنَّكَ الْيَوْمَ مِنْ وَرَاءِ كُلِّ تِجَارَةٍ فَيُعْطَى الْمُلْكَ بِيَمِينِهِ وَالْخُلْدَ بِشِمَالِهِ
وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ، وَيُكْسَى وَالِدَاهُ حُلَّتَانِ لَا يَقُومُ لَهُمَا أَهْلُ الدُّنْيَا، فَيَقُولَانِ: بِمَا كُسِينَا هَذَا؟ فَيُقَالُ: بِأَخْذِ وَلَدِكُمَا الْقُرْآنَ ثُمَّ يُقَالُ: اقْرَأْ وَاصْعَدْ فِي دَرَجِ الْجَنَّةِ وَغُرَفِهَا، فَهُوَ فِي صُعُودٍ مَا دَامَ يَقْرأُ هَذًّا كَانَ أَوْ تَرْتِيلًا»

(সূরাহ আল-বাক্বরহ ও আল ‘ইমরন শেখো, কারণ তারা দুটি আলোর মত। পুনরুত্থানের দিন তারা মানুষদের দুখণ্ড মেঘের মত, শামিয়ানার মত অথবা দুই ঝাঁক [উড়ন্ত] পাখির ন্যায় ছায়া দেবে। পুনরুত্থানের দিনে কুরআন তার পাঠকের সামনে সুদর্শন এক মানুষের রূপে এসে তাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘আমাকে চিনতে পারছেন’ লোকটি তখন বলবে, ‘আমি আপনাকে চিনি না।’ কুরআন তখন বলবে, ‘আমি কুরআন, আপনার সহচর, তীব্র গরমের সময় যে আপনাকে তৃষ্ণার্ত রেখেছিল আর রাতের বেলায় জাগিয়ে রেখেছিল। প্রত্যেক ব্যবসায়ীরই নিজস্ব ব্যবসার ধরণ রয়েছে। কিন্ত আজ আপনার ব্যবসার ধরণ সবকিছুর উর্ধে।’ তার ডান হাতে দেয়া হবে রাজত্ব, আর বাম হাতে অমরত্ব। মাথায় পড়ানো হবে মর্যাদার মুকুট। তার বাবা-মাকেও এমন দুটি মূল্যবান পোশাক দেয়া হবে যা এই পৃথিবীর কেউ কখনো পড়ার সমর্থ হয় নি। তারা তখন বলবে, ‘আমাদেরকে কেন এই পোশাক দেয়া হল?’ এরা তখন বলবে, ‘কারণ তোমার ছেলে কুরআন শিখেছিল করেছিল।’ (কুরআন পাঠককে) বলা হবে, ‘পড়ো এবং স্বর্গের ধাপ বেয়ে ওপরে উঠতে থাকো। যতক্ষণ সে কুরআন আবৃত্তি করবে ততক্ষণ সে ওপরে উঠতে থাকবে, তা সে ধীরে কিংবা দ্রুত যেভাবেই পড়ুক।)

এই হাদীসটির কিছু অংশ বিশ্‌র বিন আল-মুহাজির থেকে ইবনু মাজাও সংগ্রহ করেছেন। ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী হাদীসটি হাসান।

অন্য একটি হাদীসও এই হাদীসের কিছু অংশকে সমর্থন করে। যেমন, ইমাম আহমাদ লিখেছেন যে, আবু উমামা আল-বাহিলি বলেছেন যে, তিনি আল্লাহর রসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন,

«اقْرَأُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ شَافِعٌ لِأَهْلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اقْرَأُوا الزَّهْرَاوَيْنِ، الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ، فَإِنَّهُمَا يَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ، يُحَاجَّانِ عَنْ أَهْلِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَة»

(কুরআন পড়ো, কারণ পুনরুত্থানের দিনে এটি তার পাঠকারীর জন্য মধ্যস্থতা করবে। আল-বাক্বরহ ও আল ‘ইমরন এই দুটি জ্যোতির্ময় সূরা পড়ো। কারণ পুনরুত্থানের দিন তারা দুই খণ্ড মেঘ, দুটি শামিয়ানা অথবা দুই ঝাঁক পাখির রূপে আসবে এবং সে দিন তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে সুপারিশ করবে।)

নাবী (ﷺ) এরপর বললেন,

« اقْرَأُوا الْبَقَرَةَ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَة»

(সূরা আল-বাক্বরহ শেখো, কারণ এতে কল্যাণ রয়েছে, অবহেলা করাটা দুঃখজনক। আর যাদুকরেরা এটা কখনো মুখস্থ করতে পারবে না।)

ইমাম মুসলিম তার সলাত গ্রন্থেও এর উল্লেখ করেছেন।

ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, আন-নাওয়াস বিন সাম’আন বলেছেন যে, নাবী (ﷺ) বলেছেন,

«يُؤْتَى بِالقُرْآنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَهْلِهِ الَّذِينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِهِ تَقْدَمُهُم سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَآلُ عِمْرَان»

(পুনরুত্থানের দিনে কুরআন এবং যারা এর শিক্ষা প্রয়োগ করতো, তাদেরকে সামনে আনা হবে। সূরাহ আল-বাক্বরহ ও আল ‘ইমরন সম্মুখভাগে থাকবে।)

আন-নাওয়াস বলেছেন, “নাবী (ﷺ) সূরা দুটির জন্য তিনটি উদাহরণ দিয়েছিলেন, যা আমি কখনো ভুলব না। তিনি বলেছেন,

«كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ ظُلَّتَانِ سَودَاوَانِ بَيْنَهُمَا شَرْقٌ، أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ، يُحَاجَّانِ عَنْ صَاحِبِهِمَا»

(তারা আসবে দুই খণ্ড মেঘের মত হয়ে, দুই খণ্ড ছায়ার মত কিংবা দুই ঝাঁক পাখির মত, যারা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে।)

সহীহ মুসলিমেও এই হাদীসটির উল্লেখ আছে। আত-তিরমিযীও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান গরীব বলেছেন।

< পূর্বের পৃষ্ঠা ▬▬▬▬▬ পরের পৃষ্ঠা >

আলোচনা

One thought on “সূরাহ আল-বাক্বরহ্‌ ও আল ‘ইমরন এর গুণাগুণ

  1. আলহামদুলিল্লাহ।

    Posted by আদনান আদীব তুর্কী | মার্চ 9, 2012, 9:52 অপরাহ্ন

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: