//
সূরা আল-বাক্বরহ আল-মাদিনাতে অবতীর্ণ

সম্পূর্ণ সূরা আল-বাক্বরহ আল-মাদিনাতে অবতীর্ণ, এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই বরং আল-বাক্বরহ আল-মাদিনায় প্রথম পর্যায়ে অবতীর্ণকৃত সূরাগুলির মধ্যে একটি আর, নিম্নোক্ত আইয়াতটি কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আইয়াহ

﴿وَاتَّقُواْ يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ﴾

(এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে) [২:১৮১] এছাড়াও সুদ সংক্রান্ত আইয়াতগুলিও শেষের দিকে অবতীর্ণ হওয়া আইয়াতের অন্তর্ভুক্ত। খলিদ বিন মা’দান সূরা আল-বাক্বরকে কুরআনের ফুস্তাত (তাঁবু) বলতেন। কিছু ইসলামিক বিশেষজ্ঞের মতে এই অধ্যায়ে প্রায় এক হাজার ঘটনা, এক হাজার আদেশ-নির্দেশ এবং এক হাজারের বিধি-নিষেধ আছে। গণনাকারীদের মতে আল-বাক্বরর আইয়াত সংখ্যা দুইশো সাতাশি, শব্দ সংখ্যা ছয় হাজার দুইশো একুশ এবং অক্ষর সংখ্যা পঁচিশ হাজার পাঁচশো। আল্লাহই ভালো জানেন।

ইবনু জুরাইজ, ‘আতা’ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু আব্বাস বলেছেন, “সূরা আল-বাক্বরহ আল-মাদিনায় অবতীর্ণ।” খসিফ, মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবাইর বলেছেন, “সূরা আল-বাক্বরহ আল-মাদিনায় অবতীর্ণ।” অন্যান্য ইমাম ও তাফসীর বিশেষজ্ঞগণও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।

দুই সহীহ গ্রন্থে আছে, ইবনু মাস’উদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর বাম পাশে কা’বা ও ডান পাশে মিনা রেখে (জামারহ এর দিকে) সাতটি নুড়ি পাথর ছুঁড়ে মেরে বললেন, “যার ওপর সূরা আল-বাক্বরহ অবতীর্ণ হয়েছে (অর্থাৎ নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনি এভাবেই রামি (হাজ্জের সময় নুড়ি পাথর ছোড়া) করতেন।”

এছাড়াও, ইবনু মারদুইয়াহ শু’বাহ থেকে একটি হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন, যেটা ‘আক্বিল বিন তালহা, ‘উতবা বিন মারছাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, “নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহচরদের প্রথম সারিতে না পেয়ে বললেন,

«يَا أَصْحَابَ سُورَةِ الْبَقَرَة»

(হে সূরা আল-বাক্বরর সহচরগণ।) আমার মনে হয় ঘটনাটি হুনাইনের যুদ্ধের সময়কার যখন সহচরগণ পিছু হটছিলেন। এরপর তিনি (তাঁর চাচা) আল-‘আব্বাসকে জোরে ডাকতে বললেন,

«يَا أَصْحَابَ الشَّجَرَة»

(হে গাছের সহচরগণ!) অর্থাৎ যারা আর-রিদওয়ানের (গাছের নিচে) অঙ্গীকারের সময় উপস্থিত ছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল-‘আব্বাস উচ্চ কণ্ঠে সাহস জোগানোর জন্য ডাকছিলেন, “হে সূরা আল-বাক্বরর সহাবীগণ!” যার ফলে তারা চারদিক থেকে পুনরায় ফিরে আসলেন। এছাড়াও আল-ইয়ামামার যুদ্ধে মিথ্যাবাদী মুসাইলিমার বিশাল বাহিনী দেখে সহাবীগণ প্রথমে পিছু হটছিলেন। মুহাজিরুন ও আনসারগণ সবাইকে “হে আল-বাক্বরর লোকেরা” এই বলে ডাকছিলেন। আল্লাহ অতপর তাদের বিজয় দিয়েছিলেন। আল্লাহ সকল নাবীগণের সকল সহাবীদের ওপর সন্তুষ্ট হন।

< পূর্বের পৃষ্ঠা ▬▬▬▬▬ পরের পৃষ্ঠা >

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: