//
আল-ক্বদ্‌র এর রাতের মর্যাদা

 ﴿بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـنِ الرَّحِيمِ ﴾

আল্লাহর নামে, সবচেয়ে দয়াময়, সবচেয়ে দয়ালু।

﴿إِنَّا أَنزَلْنَـهُ فِى لَيْلَةِ الْقَدْرِ – وَمَآ أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِشَهْرٍ – تَنَزَّلُ الْمَلَـئِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ – سَلَـمٌ هِىَ حَتَّى مَطْلَعِالْفَجْرِ ﴾

(১. নিশ্চয় আমরা একে আল-ক্বদ্‌র এর রাতে অবতরণ করেছি।) (২. তুমি কি জান, আল-ক্বদরের রাত কি?) ( ৩. আল-ক্বদরের রাত এক হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।) ( ৪. তাতে দূতগণ (ফেরেশতা) ও আর-রূহ তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে প্রতিটি নির্দেশ নিয়ে নেমে আসে।) (৫. ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত শান্তি অব্যাহত থাকে।)

আল-ক্বদ্‌র এর রাতের মর্যাদাঃ

আল-ক্বদ্‌র এর রাতে আল্লাহ আল-ক্বুরআন অবতরণ করেছেন। এটি একটি কল্যাণময় রাত যার ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন,

﴿إِنَّآ أَنزَلْنَـهُ فِى لَيْلَةٍ مُّبَـرَكَةٍ﴾

(আমি একে অবতরণ করেছি এক কল্যাণময় রাতে।) (৪৪:৩) সেটি হচ্ছে রমাদন মাসের আল-ক্বদ্‌র এর রাত। যেমন আল্লাহ বলেছেন,

﴿شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِى أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ﴾

(রমাদন মাস; যাতে আল-কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে) (২:১৮৫) ইবনু আব্বাস ও অন্যান্যরা বলেছেন, আল্লাহ সমগ্র আল-কুরআন একত্রে সংরক্ষিত ফলক (আল-লাওহ আল-মাহফুজ) থেকে নিকটতম মহাকাশের ওপর অবস্থিত সম্মানিত ঘরে (বাইতুল-ইযযাহ) অবতীর্ণ করেন। এরপর এটি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ক্রমে ক্রমে তার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।

এরপর আল্লাহ আল-কুরআন অবতরণের জন্য যে রাতকে মনোনীত করেছেন তার মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বলেছেন

﴿وَمَآ أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴾


(২. তুমি কি জান, আল-ক্বদরের রাত কি? আল-ক্বদরের রাত এক হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।) ইমাম আহমাদ, আবূ হুরইরহ (রদি.) থেকে বর্ণনা করেছেন,
যখন রমাদন আসতো, তখন আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন,

«قَدْ جَاءَكُمْ شَهْرُ رَمَضَانَ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، افْتَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُفِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌخَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِم»

(নিশ্চয়ই তোমাদের সবার জন্য রমাদন মাস এসে গেছে। এই কল্যাণময়ী মাসে আল্লাহ্‌ তোমাদের সবার ওপর সিয়ামকে বাধ্যতামূলক করেছেন। এ সময়ে স্বর্গের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, নরকের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শয়তানকে শেকলে বন্দী করে রাখা হয়। এতে এমন এক রাত আছে যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর সুফল থেকে বঞ্চিত হল,সে প্রকৃত অর্থেই বঞ্চিত হল।” আন-নাসাঈও এই হাদীসটি রেকর্ড করেছেন। এ রাতের ইবাদাত হাজার মাস ধরে কৃত ইবাদাতের সমতূল্য। এ ছাড়াও এ রাতের আরেকটি গুণ দুই সহীহ হাদীস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। আবূ হুরইরহ (রদি.) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه»

(যে আল-ক্বদ্‌র এর রাতে বিশ্বাস ও (আল্লাহর নিকট থেকে) পুরস্কার লাভের আশায় (সলাতে) দাঁড়ায় তার অতীত পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।)

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: